ঢাকা:  সীমান্তে বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে ব্যাপক গুলির লড়াই। আর এই গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হল বিএসএফের এক জওয়ানের। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে জলঙ্গির কাটমারি চকে। মৃত জওয়ানের নাম বিজয় ভান সিং (৫০)। ১১৭ ব্যাটিলিয়ন কর্মরত বিএসএফ ডিআইবি পদে কর্মরত ছিলেন, উত্তরপ্রদেশের আগ্রার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও এক জওয়ান। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে সীমান্ত এলাকায়।

পড়ুন আরও-সীমান্তে বিএসএফ-বিজিবির গুলির লড়াই, মৃত এক জওয়ান

তবে এই ঘটনার দায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী অর্থাৎ বিএসএফের উপরেই চাপিয়েছে বাংলাদেশের এক আধিকারিক। বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চারঘাট উপজেলার মৎস্য আধিকারিক আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রজনন মৌসুমের জন্য এখন নদীতে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই অবস্থায় নাকি জেলেরা যেন নদীতে ইলিশ শিকার করতে না পারে সে জন্য বিজিবি সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নদীতে অভিযানে যায়। তারা দেখেন, পদ্মা-বড়ালের মোহনায় বাংলাদেশের সীমানার ভেতর একটি নৌকায় করে তিনজন ভারতীয় জেলে ইলিশ শিকার করছেন।

ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারা গিয়ে তাদের আটকের চেষ্টা করেন। সেই সময় দুইজন পালিয়ে যান বলে দাবি। আর একজনকে আটক করা সম্ভব হয়। সেই পালিয়ে যাওয়া জেলেরা গিয়ে বিএসএফকে বিষয়টি জানায়। বিএসএফ সদস্যরা এসেই গালাগালি শুরু করে বলে অভিযোগ তাঁর। বিজিবি এর প্রতিবাদ করলে তারা গুলি ছোঁড়ে বলে দাবি তাঁর। তখন বিজিবির পক্ষ থেকেও গুলি ছোঁড়া হয়নি বলেই ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, বিজিবির মেজর আসিফ বুলবুল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একজন ভারতীয় জেলে আমাদের হাতে আটক রয়েছেন। শুনছি গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। বিকালে দুই বাহিনীর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক ডাকা হয়েছে। তার পরই বিস্তারিত বলা যাবে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দাবি করছে যে, এ ঘটনার পর একজন ভারতীয় জেলেকে আটক করে বিজিবির চারঘাট করিডর সীমান্ত ফাঁড়িতে আনা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার ইলিশ শিকারের জালও।