নয়াদিল্লি: শীতের মরশুমে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি সংগঠন উপত্যকায় বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে। এই ব্যাপারে কেন্দ্রকে চূড়ান্ত সতর্কব করল গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, হামলার নকশা চূড়ান্ত করতে পাকিস্তানের ভাওয়ালপুরের ঘাঁটিতে প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন খোদ জইশ প্রধান মাসুদ আজহার। অন্য দিকে ভারত যে বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলার মুখে পড়বে তা সরাসরিই জানিয়েছে লস্কর কম্যান্ডার আবু উজেইল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, এই সমস্ত তথ্যই কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। আত্মঘাতী হামলা হতে পারে বলে এমনই ইঙ্গিত পেয়েছেন গোয়েন্দারা। কিন্তু, এই হামলা কবে, কোথায় হতে পারে সেই বিষয়ে বিশদে এখনও কোনও তথ্য পাননি তাঁরা।

শীতের সময় প্রায় গোটা কাশ্মীরই বরফের চাদরে ঢেকে যায়। তাই শীতের আগেই জঙ্গিরা নিয়ন্ত্রণরেখা পার করতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। আর প্রতিবারের মত এবারেও জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণরেখা পারে সাহায্য করবে পাক সেনা এবং পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। তবে, একই ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয় তাই সীমা বরাবর নজরদারি বাড়িয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

এই বছরের ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। এরপরেই ভারতীয় বায়ুসেনা পাক অধিকৃত বালাকোটে অভিযান চালায়। ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয় বেশকিছু জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাড। এরফলে আন্তর্জাতিক মহলে শিরোনামে উঠে আসে বালাকোট। আর এই ঘটনার পর থেকেই সদর কার্যালয় ভাওয়ালপুরে সরিয়ে নিয়ে যায় জইশ। সূত্রের খবর অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী জইশ প্রধান মাসুদ আজহার। আর তাঁর অনুপস্থিতিতেই দায়িত্বভার নিয়েছেন আজহারের ভাই মুফতি আবদুল রউফ আসগর।

গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, এই ভাওয়ালপুরের ঘাঁটিতে চলতি সপ্তাহেই জইশের শীর্ষ জঙ্গিদের ডেকে পাঠায় মাসুদ আজহার। সেখানে হাজির ছিলেন আজহারের ভাই আবদুল রউফও। আর এই বৈঠকেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। ঠিক এরপরেই কেন্দ্রকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন তারা।

গত অগস্ট মাসের ৫ তারিখ সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করে জম্মু-কাশ্মীরকে আলাদা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করে কেন্দ্র। সেই সঙ্গেই তুলে নেওয়া হয় উপত্যকার বিশেষ মর্যাদাও। আর এই ঘোষণার পর থেকেই উপত্যকায় কার্যত ‘কার্ফু’ জারি করেছিল কেন্দ্র। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ইন্টারনেট,টেলি পরিষেবা।

কিন্তু, ধীরে ধীরে সেই সব নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতেই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে ভূস্বর্গ। এর মাঝেই কাশ্মীরের ত্রালে সেনার গুলিতে মারা গিয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের আল-কায়দা শাখার প্রধান হামিদ লেলহারি। তাই স্বাভাবিক পথে ফিরতে থাকা কাশ্মীরের বুকে অশান্তি বজায় রাখতে আত্মঘাতী হামলার ছক কষছে জঙ্গিরা।