নয়াদিল্লি: সক্রিয় হয়ে উঠেছে জইশ ই মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার৷ পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে তাকে৷ ভারতীয় গোয়েন্দা দফতর সূত্রে খবর জইশ প্রধান তার সংগঠনের সদস্য, বিশেষত শীর্ষ কমাণ্ডারদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে৷ সেখানে ভারতে নতুন করে হামলার ছক তৈরি করা হয়েছে বলে গোপন সূত্রের খবর৷

জি নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে জইশের প্রতিটি শীর্ষ কমাণ্ডারকে মাসুদ আজহারের নির্দেশ খুব কম সময়ের মধ্যে বড়সড় হামলা চালানোর জন্য যেন তারা প্রস্তুত থাকে৷ এজন্য ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

তবে মাসুদ আজহার এবার দাবি করেছে গত ১৭ বছরে সে বা তার সংগঠনের কোনও সদস্যের চিকিৎসকের প্রয়োজন হয়নি৷ এমনকী হাসপাতালেও যেতে হয়নি তাদের কাউকেই৷ মাসুদের এই দাবি ফের একবার পাকিস্তানের মিথ্যাচারকে সামনে আনল৷

উল্লেখ্য ১৪ই ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলা চালায় জইশ৷ পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি সেসময় দাবি করেছিলেন, পুলওয়ামা হামলা চলার সময়ে মাসুদ আজহার অসুস্থ ছিল৷

সেই সময় পাকিস্তান দাবি করে, তারা ক্রমাগত জইশের কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখছে৷ পাশাপাশি মাসুদ আজহার যে অসুস্থ, তার সপক্ষে পাক বিদেশমন্ত্রী সাক্ষাৎকারও দেন৷ তবে সবই যে মিথ্যে ছিল, তা প্রমাণ করল এদিনের মাসুদ আজহার সম্পর্কে বেরিয়ে আসা বেশ কিছু তথ্য৷ এর আগে শোনা গিয়েছিল জঙ্গিনেতা মাসুদ আজহারের মৃত্যু হয়েছে। পাক বিদেশমন্ত্রী বলেছিলেন খুবই অসুস্থ মাসুদ। কিন্তু সেসব জল্পনা উড়িয়ে মাসুদ নিজেই জানায় যে সে নাকি বেঁচে আছে এবং ভালই আছে।

Gfx- মিতুল দাস

জইশ-ই-মহম্মদের মুখপত্র আল-কালামে একটি প্রতিবেদন লিখে এমন দাবিই করে জইশ প্রধান এবং পুলওয়ামা কাণ্ডের মূল চক্রী মাসুদ আজহার। যদিও ওই প্রতিবেদন আদতে মাসুদ লিখেছে নাকি এটাও নিছক প্রোপাগান্ডা তা স্পষ্ট নয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার বোমাবর্ষণে জইশ দলের কারও কোনও ক্ষতি হয়নি, সবাই জীবিত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তিরন্দাজি অথবা শুটিং-এর প্রতিযোগিতায় নামার চ্যালেঞ্জও ছুড়েছে ভারতের এই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি। ‘সাদি’ ছদ্মনামে ওই মুখপত্রে লিখে থাকে লজইশ প্রধান মাসুদ আজহার। জানা গিয়েছে, এই মুখপত্রের সাম্প্রতিক সংখ্যায় পুলওয়ামা কাণ্ড এবং তার পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে লেখা হয়েছে। পুলওয়ামা হামলার পর জানা যায় মাসুদ কিডনির অসুখে আক্রান্ত।

তবে তার কথায়, ‘গত ১৭ বছর ধরে অসুস্থতার জন্য জইশের কেউ হাসপাতালে যায়নি। কখনও কোনও চিকিৎসকেরও প্রয়োজন পড়েনি।’ নিজের ভাল স্বাস্থ্যের জন্য ‘কোরান’ নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাকেই কারণ হিসেবে দেখিয়েছে সে।