জয়পুর : অলিম্পিকে দিপা কর্মকারের পারফর্মেন্স প্রসঙ্গে টুইট করবার জন্য ধর্ষণের হুমকি পেলেন এক মহিলা। জানা গিয়েছে ওই মহিলা জয়পুরের বাসিন্দা। ঘটনায় ভীত ওই মহিলা সাহায্যের জন্যই বিদেশ মন্ত্রককে উদ্দেশ্য করে টুইটও করেন।

ঘটনায় রাজস্থান পুলিশ তিনটি অচেনা ব্যক্তির টুইটার অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে কেস ফাইল করেছে। ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্টের ৬৬ ডি এবং ৬৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬ ডি ধারাটি প্রযোজ্য হয় তাদেরই বিরুদ্ধে যারা কম্পিউটারে পরিচয় ভাঁড়িয়ে প্রতারণা করে। আর ৬৭ নম্বর ধারায় তাদেরই বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয় যারা ইলেকট্রনিক মাধ্যমের সাহায্যে অশ্লীল কিছু পরিবেশন কিংবা প্রকাশ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে গত ১৪ আগস্ট দীপা কর্মকারের জিমন্যাস্টিক ফাইনাল ইভেন্টটি ছিল। তার পারফর্মেন্সের আগেই মহিলা বেশ কয়েকটি টুইট করেন। টুইতে তিনি লিখেছিলেন “অলিম্পিকে দীপা কর্মকারের ফাইনাল ভল্ট নিয়ে আমার মতবিরোধ রয়েছে। অলিম্পিকের ফাইনালে যাওয়াটা একটা দারুন কৃতিত্ব তবুও বলব  স্রেফ একটা মেডেলের জন্য দীপাকে মারাত্মক প্রোদুনভা ভল্ট দিতে হবে। আজ এমন অবস্থার জন্য দায়ী শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ , পরিকাঠামোর অভাব”।

তিনি আরও লেখেন “অন্য দেশের জিমন্যাস্টরা সাধারন ভল্ট দিয়েই বড় পয়েন্ট পেয়ে যায়, অথচ আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। আজ রাতে দীপাকে মেডেল পেতে গেলে জীবন বাজি রাখতে হবে, আমার মতে যে দেশের খেলোয়াড়ই হোক না কেন কারোর ক্ষেত্রেই জীবনটা শুধু মেডেল নয়”।

এরপরেই মহিলার এই টুইটকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।  । মহিলাকে প্রাননাশ ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় টুইটের মাধ্যমে। আকস্মিক এই ঘটনায় ভীত মহিলা কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রীকের সাহায্য চেয়ে পাঠান। এরপরে মহিলাকে সাহাজ্যের জন্য বিদেশ মন্ত্রকের নির্দেশ পৌঁছায় রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসারকে ঘটনার তদন্ত করবার দায়িত্ব দেন। ১৫ আগস্ট প্রতাপ নগরে থানায় ঘটনার অভিযোগ জানিয়ে একটি মামলাও রুজু করেন ওই মহিলা। পুলিশ জানিয়েছে তারা আইপি অ্যাড্রেসের মাধ্যমে ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরবার চেষ্টা করেছে। সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ মুকেশ চৌধুরী জানিয়েছেন দেশের বাইরে সার্ভার হওয়ায় অপরাধীদের ধরতে কিছু সময় লাগবে।