কলকাতা: গত রবিবারই শ্রীলঙ্কায় ধারাবহিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আইএস মদতপুষ্ট জঙ্গিরা৷ ওই বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বোমা হামলার পরই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷ তাতে দেখা গিয়েছে, জাহরান হাশিম নামের একজন ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে৷

প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনার দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এই ব্যক্তি৷ সেও নাশকতায় মৃত৷ বিবিসি রিপোর্ট থেকে এমন খবর জানা যাচ্ছে৷ ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করে৷ নাশকতায় জড়িত সাতজনের ছবি প্রকাশ করে তারা৷ সেই ছবিতে জাহরান হাশিমকেও দেখা গিয়েছে৷ ওই সাতজনের মধ্যে ছজনের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা৷ কিন্তু জাহরানের মুখ ঢাকা ছিল না৷ হাশিম শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় শহর কাত্তানকুদি এলাকার বাসিন্দা৷

সূত্রের খবর নিজের উগ্র মৌলবাদী ইসলামিস্ট মত প্রচারের জন্য ইন্টারনেটকে হাতিয়ার বানান জাহরান৷ ফেইসবুকে নিজের একাউন্ট খুলে তিনি সেখানে নানা মৌলবাদী ভিডিও পোস্ট করা শুরু করেন৷ সেই সময় সুফীবাদের অনুসারীরা জাহারানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনও লাভ হয়নি৷ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জঙ্গী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী কয়েকটি সংস্থার পক্ষ থেকে ভারত, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে সোশ্যাম মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকের মাধ্যমেই সুদূর সিরিয়া থেকে এই দেশগুলিতে নিজেদের জঙ্গী নেটওয়ার্খ তৈরি করছে আইসিসি-এর মতো জঙ্গী সংগঠনগুলি৷

১২ বছর বয়সে ‘জামিয়াতুল ফালাহ অ্যারাবিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ লেখাপড়া শুরু করে জাহরান৷ এখানেই অল্প সময়ে মুলসমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরান মুখস্থ করে সে, তারপর ইসলামি আইন নিয়ে লেখাপড়া শুরু করে জাহরান

এই সময় শিক্ষকদের সঙ্গে জাহরানের মতবিরোধ বাড়তে থাকে৷ আলিয়ার এক শিক্ষক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “শিক্ষকরা কোরানের উদার ব্যাখ্যা করতেন, যেটা জাহরানের পছন্দ ছিল না৷ সে চরমপন্থী ইসলামের দিকে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে, শিক্ষকদের সঙ্গে তর্ক করা শুরু করে৷ একটা সময় পরে সে এতটাই অবাধ্য হয়ে উঠছিল যে আমরা তাকে স্কুল থেকে বের করে দিতে বাধ্য হই৷”

জাহরান ছোট ছোট শহরে ঘুরে ঘুরে তার কট্টর মতের প্রচার শুরু করে৷ ওই অঞ্চলে জনপ্রিয় সুফিবাদের সঙ্গে তার মতের সংঘর্ষ হয় এবং সুফি নেতারা জাহরানের বিরুদ্ধে প্রাশসনে অভিযোগ শুরু করেন৷

এরপর নিজের ইসলামিস্ট মৌলবাদি আদর্শ প্রচার করার জন্য জাহরান র‌্যালি ও সমাবেশ করতে থাকে৷ যেখানে সে উচ্চকণ্ঠে বিদ্বেষ উগড়ে দিতে থাকেন৷ ২০১২ সালে তিনি নিজের একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন৷ এই সময় সুফিবাদের অনুসারীরা স্থানীয় প্রশাসন এবং সন্ত্রাস দমন কর্মকর্তাদের কাছে তার বিরুদ্ধে জোরাল অভিযোগ করে থাকে৷ যদিও তাতে প্রশাসন কোনরকম কর্ণপাতই করেনি৷ নিজের বক্তৃতায় সুফিবাদীদের ‘কাফির’ (অবিশ্বাসী) বলত জাহরান৷