স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পশ্চিবঙ্গে রাজ্যপাল হয়ে আসার পর বার বার সংঘাত বেধেছে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে৷ এবার সেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল নিয়ে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসের পরেই তৎপর হয় রাজ্য সরকার৷ গতকাল অনেক রাত পর্যন্ত নবান্নের কন্ট্রোলরুমে থেকে তদারকি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কলকাতা পুরসভাসহ একাধিক জায়গায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম৷ নেওয়া হয়েছিল আগাম প্রস্তুতি৷ ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আছড়ে পড়ার আগেই উপকূল এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার মানুষকে৷ খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির৷ তার ফলেই অনেক প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলা৷

রবিবার সকালে রাজ্য সরকারের তৎপরতার প্রশংসা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়৷ তিঁনি টুইট করে জানান, কেন্দ্রের সঙ্গে সমানে যোগাযোগ রেখে যেভাবে দক্ষতার সঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, এককথায় তা অভূতপূর্ব৷ পাশাপাশি তিঁনি এগিয়ে আসতে বলেন স্বেচ্ছ্বাসেবী সংস্থাগুলোকেও৷

রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় আরও জানান, নৌসেনা, রাজ্য পুলিশ এবং উপকূল রক্ষী পরিস্থিতি নজর রাখছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদে আনতে নানা পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার৷

কিছুদিন আগেই রাজ্যপালকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘বিজেপির পার্টি ম্যানকে নিয়ে আমাকে কোন প্রশ্ন করবেন না৷ আমি কোনও উত্তর দেব না৷ উনি বিজেপির লোক।’এর আগে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্যপালের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘উনি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রের মতো কথা বলছেন৷’এবার রাজ্যপালকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ ফের আরও একবার সংঘাত তৈরি হল৷
সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর- রাজ্যপাল সংঘাত শুরু হয়েছিল কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে৷ ওই প্রকল্প নিয়ে রাজ্যপাল বলেন, “অনেক দরিদ্র মানুষ আছেন, যারা চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না৷ তাই আমার কাছে তিন হাজারেরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। দেখা গিয়েছে তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকেই যোগ্য৷ স্বাস্থ্যই মানুষের সম্পদ৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করা উচিৎ নয়।”

রাজ্যের নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে রাজ্যপাল আরও বলেছেন, “কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে রাজ্য অন্তর্ভুক্ত করুক। রাজ্যে স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। রাজনীতির মধ্যে স্বাস্থ্যকে যুক্ত করবেন না।” এই মন্তব্যের পরেই তিনি রীতিমত রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রকল্পে সাধারণ মানুষ একদমই উপকৃত নয়। যার পরেই তিনি তুলনামূলক আলোচনা করে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্প সূচনার কথা বলেছেন।