স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পাক গোলাবর্ষণে নদিয়ায় শহিদ সুবোধ ঘোষের শেষকৃত্যে সময়ে খোদ বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে টুইটারে রাজ্য সরকার ও পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

রবিবার রাতে সুবোধ ঘোষের নিথর দেহ ফেরে নদিয়ার রঘুনাথপুরের বাড়িতে। বাড়ি থেকে ১ কিমি দূরে স্কুলমাঠে অস্থায়ী মঞ্চে শ্রদ্ধা জানান পরিবারের সদস্য, গ্রামবাসী থেকে শুরু করে এলাকার বিধায়ক, সাংসদ, পুলিশ–প্রশাসনের লোকজন। সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এলে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার। যদিও পরে তিনি নিহত জওয়ানকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা নিয়ে সরব হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। পরপর তিনটি টুইট করেছেন তিনি। রাজ্যপালের লিখেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই প্রশাসনে পুলিশের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বলে কিছুই নেই। পলাশি শ্মশানে নিহত জওয়ান সুবোধ ঘোষের শেষকৃত্যে সাংসদ জগন্নাথ সরকারের সঙ্গে পুলিশ যে আচরণ করেছে সে সম্পর্কে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে রিপোর্ট চাইছি। এতে নদিয়ার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের কর্তব্যে গাফিলতি সামনে এসেছে।”

তাঁর আরও অভিযোগ, “গণতন্ত্রকে লজ্জিত করেছে ‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন। “একদিকে এই অনুষ্ঠানে স্বাগত জানানো হচ্ছে শাসকদলের সাংসদকে। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে রাজ্যের পুলিশ। রাজনৈতিক নেতাদের মতো আচরণ করছে। সরকারি কর্মচারীরা যদি রাজনৈতিকভাবে কাজ করে তবে তাদের আইনের কোপে পড়তেই হবে।”

একইসঙ্গে এদিন রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ কর পুরকায়স্থকে উদ্দেশ্য করে রাজ্যপাল লিখেছেন, “রাজ্যের কাছ থেকে তথ্য চাওয়া নিয়ে কীরকম বাধ্যবাধকতা রয়েছে সে ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। কিন্তু প্রশাসনের কোনও উর্দীধারী যদি এ ধরণের সীমালঙ্ঘন করে তা দেখলে চমৎকৃত হবে।”

উল্লেখ্য, অল্প বয়েসেই সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছিলেন নদিয়ার তেহট্টের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা সুবোধ ঘোষ। তাঁর স্ত্রী ও শিশুকন্যা আছে। জুলাই মাসে শেষবার ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন সুবোধ। ডিসেম্বরে তাঁর আবার বাড়ি আসার কথা ছিল। শুক্রবার কাশ্মীরে সীমান্ত লাগোয়া চারটি জায়গায় সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে অতর্কিত হামলা চালায় পাক সেনা। শহিদ হন চারজন ভারতীয় জওয়ান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নদিয়ার সুবোধ ঘোষও।

রবিবার রাতে শহিদের কফিনবন্দি দেহ পৌঁছতেই পাকিস্তান বিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা গ্রামে। ছেলের মৃতদেহের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকেরা। স্থানীয় একটি স্কুলের মাঠে গান স্যালুটের পর পলাশি শশ্মানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় বাঙালি জওয়ানে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.