সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সম্প্রতি লকডাউনে রাস্তায় বেরিয়ে রাস্তার কুকুরদের খাওয়াতে গিয়ে নেটিজেনের রোষের মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। কিন্তু তিনি তাতে পাত্তা না দিয়ে নিজের কাজ করে গিয়েছেন। এবার এগিয়ে এল কলকাতার একটি বড় দুর্গা পুজো কমিটির সদস্যরা। পথ সারমেয়দের তারা প্রত্যেকদিন খাবারের যোগান দিচ্ছেন।

জগৎ মুখার্জি পার্ক প্রত্যেক বছর দুর্গা পুজোয় থিমের মণ্ডপে সাধারণ মানুষের মন জয় করে নেয়। তখন রাস্তায় ভিড়। পথ সারমেয়দের খাবারের অভাব হয় না। আজ বড় রাস্তায় লোক নেই। লকডাউন চলছে ওদের আজ খাদ্যের অভাব। এক্ষেত্রেও পথ সারমেয়দের খাদ্যের যোগান করে দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিল ক্লাবের সদস্যরা। তাদের এমন কর্মকাণ্ডকে অনেকেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন। ক্লাবের পক্ষে জানানো হয়েছে , ‘ওরা রাত জাগে, তাই আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমোই, করোনার জন্য লকডাউনে যেন ওদের ক্ষুধার্ত থাকতে না হয় তা নিশ্চিত করতে আমরা এগিয়ে এসেছি।

লকডাউন, বাঙালীর শব্দ ভাণ্ডারে নবতম সংযোজন। এরকম অভিজ্ঞতা আমাদের কারোরই আগে কখনও হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে, পরিবারের স্বার্থে, সমাজের স্বার্থে অনেক কিছুই করছি, অনেক কিছুই মানছি বা মানতে বাধ্য হচ্ছি একপ্রকার। কিন্তু, সমাজ মানে তো শুধু আমদের আত্মীয় পরিজন, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিত-অপরিচিতরা নয়। আমাদের চারপাশে পশু পাখিরাও সমাজের অঙ্গ। ওরা নিত্য দিন আমাদের দিকেই তাকিয়ে থাকে তাদের ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য। আমাদের সুখ-দুঃখের সাথী।’

তারা আরও জানাচ্ছেন, ‘মানুষ চিন্তাশীল জীব। তাই শুধুমাত্র নিজের সুখ-দুঃখের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে সে সীমার মধ্যেই অসীমের সুর শুনতে পায়। এ তার জীবন সাধনারই অঙ্গ। তার জীবন দেবতা সমস্ত জীবের মধ্যে দিয়েই তার অর্ঘ্য গ্রহণ করে নিত্যদিন। জগত মুখার্জ্জী পার্ক দুর্গোৎসব কমিটি আজ তাই সামিল হতে চেয়েছে এই বৃহতের পুজোয়। লকডাউনের সময় আমাদের চারপাশে যে পথ প্রাণীরা দুবেলা একটু খাবারের জন্যে আমদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, তারা আজ নিদারুণ খাদ্য সংকটের সামনে দাঁড়িয়ে। রাস্তায় মানুষ নেই। কে দেবে তাদের খাবার।

যে ছোটখাটো খাবারের দোকান গুলোর সামনে দাঁড়িয়ে দুবেলা খাবার জোগাড়টা তারা করে নিতে পারত, সেগুলোও আজ বন্ধ। কিন্তু খিদের তো আর লকডাউন হয় না। তাই আজ আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সীমিত সামর্থ্যে মানুষ হয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে। প্রায় ২৫ কেজি চালের ভাত আর মাংস নিয়ে আমরা হাজির হয়েছিলাম তাদের কাছে। এলাকার পথ প্রাণীদের সেবায় আমাদের এক সামান্য প্রচেষ্টা।

এরই মধ্য দিয়ে আমরা আবেদন রাখতে চাই সমস্ত মানুষ, ক্লাব সংগঠন ও অন্যান্য পুজো কমিটির কাছেও। আসুন, যাদের রাত পাহারায় আমরা রোজ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি, তাদের যেন খাবার কষ্ট না হয়। আমাদের যার যতটুকু সামর্থ্য ততটুকু নিয়েই যেন আমরা তাদের পাশে থাকতে পারি। তারাও আমাদের এই সমাজের অপরিহার্য অংশ, আমাদের পরিবারের অংশ। তারা যেন একটা দিনও অভুক্ত না থাকে।’

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।