ক্রাইশ্চচার্চ: মহম্মদ কাইফ, যুবরাজ সিং’দের হাত ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ে এসেছিল নবজাগরণ। দীর্ঘদিন ধরে রবীন্দ্র জাদেজা সেই পরম্পরার অন্যতম বাহক। ভারতীয় দলে ফিল্ডিংয়ে তাঁর দক্ষতা প্রশ্নাতীত। আর রবিবাসরীয় হ্যাগলে ওভালে যে ক্যাচটায় নীল ওয়্যাগনারকে ফেরালেন তিনি, তাতে আরও একবার প্রমাণিত জাদেজার নামের পাশে ‘স্যার’ পদবি যথাযথ।

প্রথম ইনিংসে ভারতের ২৪২ রানের জবাবে ২২৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে তখন অনেকটাই ব্যাকফুটে নিউজিল্যান্ড। অন-স্ট্রাইক নীল ওয়্যাগনারের বিরুদ্ধে বল হাতে মহম্মদ শামি। বঙ্গ পেসারের একটি শর্টপিচ ডেলিভারি পুল হাঁকালেন নিউজিল্যান্ডের দশ নম্বর ব্যাটসম্যান। ডিপ স্কোয়্যার লেগ থেকে সে সময় অনেকটাই এগিয়েছিলেন ভারতীয় দলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেপরোয়া ফিল্ডার রবীন্দ্র জাদেজা। ওয়্যাগনারের পুল শট যখন যখন জাদেজাকে টপকে নিশ্চিত বাউন্ডারির দিকে, ঠিক তখনই শরীর শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে কিউয়ি ব্যাটসম্যানের পুল ছো মেরে লুফে নিলেন জাদেজা।

শুধু ক্যাচ তালুবন্দী করাই নয়, এরপর মাটিতে পড়ার সময় জাদেজার শারীরিক ভারসাম্য ছিল শিক্ষানবীশ ক্রিকেটারদের আদর্শ। নিমেষের মধ্যে ‘স্যার’ জাদেজার সেই ক্যাচ ভাইরাল হয়ে যায় ইন্টারনেটে। জাদেজার এই ক্যাচই কী সর্বকালের সেরা শুরু হয়ে যায় চর্চা। তবে সর্বকালের সেরা না হলেও ভারতীয় ক্রিকেটারের এই ক্যাচ যে টেস্ট ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ক্যাচের তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

উল্লেখ্য, প্রথমদিন তৃতীয় সেশনে বল হাতে সাফল্য না এলেও দ্বিতীয়দিন হ্যাগলে ওভালের বাইশ গজে বল হাতে ছড়ি ঘোরালেন ভারতীয় বোলাররা। সবচেয়ে সফল মহম্মদ শামি নিলেন ৪ উইকেট। ৩ উইকেট নিয়ে দারুণভাবে ছন্দে ফিরলেন জসপ্রীত বুমরাহ। দু’টি ক্যাচ নেওয়াই নয়, বল হাতেও বিপক্ষের দু’টি মূল্যবান উইকেট এদিন তুলে নেন জাদেজা। ভারতীয় বোলারদের দাপটে ২৩৫ রানেই শেষ হয়ে যায় কিউয়িদের প্রথম ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ৭ রানের লিড নেয় ভারতীয় দল।