কলকাতা:  বাংলার লোকসভা কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র যাদবপুর৷ ১৯৭৭ সাল থেকে ভোট শুরু হয় এই কেন্দ্রে৷ এই কেন্দ্রই রাজনৈতিক উত্তরণ ঘটিয়েছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। হেভিওয়েট সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি হয়েছিলেন জায়ান্ট কিলার৷ আবার সেই কেন্দ্রেই মমতার পরাজয় হয়েছিল বাম প্রার্থী মালিনী ভট্টাচার্যের কাছে। সেই যাদবপুরেই দুই রাজনৈতিক অভিজ্ঞের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছেন মমতা৷ সিপিএমের বিকাশ ভট্টাচার্য তো বটেই বিজেপির(প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ) অনুপম হাজরার কাছেও যাঁর রাজনৈতিক জ্ঞান সীমিত৷

১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনে জিতে এই কেন্দ্র থেকে জয়ের হ্যাটট্রিক করেন কৃষ্ণা বসু। তিনিই একমাত্র সাংসদ, যিনি এই কেন্দ্রে পরপর তিনটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। প্রথমবার কংগ্রেসের টিকিটে। পরের দুবার তৃণমূলের টিকিটে জিতে সংসদে যান কৃষ্ণাদেবী। ২০০৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন গায়ক কবীর সুমন।

২০১৪-র নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন সুগত বসু। তিনি পেয়েছিলেন ৫,৮৪,২৪৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের সুজন চক্রবর্তীর প্রাপ্ত ভোট ৪,৫৯,০৪১। বিজেপির স্বরূপপ্রসাদ ঘোষ পান ১,৫৫,৫১১ ভোট। কংগ্রেসের সমীর আইচের প্রাপ্ত ভোট ২৬,৩৪৪।

তৃণমূল কংগ্রেস এবার বিদায়ী সুগত বসুকে প্রার্থী করেনি। নবাগতা অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছেন মমতা। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল-ত্যাগী সাংসদ অনুপম হাজরা। সিপিএম প্রার্থী করেছে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে। কংগ্রেস এই কেন্দ্রে কোনও প্রার্থী দেয়নি।তারা বিকাশ ভট্টাচার্যকে সমর্থন জানিয়েছে৷

যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র হল- বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, সোনারপুর দক্ষিণ, সোনারপুর উত্তর, ভাঙড়, যাদবপুর ও টালিগঞ্জ। এই সাতটি কেন্দ্রই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত।২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুরের ৭টি বিধানসভা অঞ্চলের ভোট যোগ করলে তৃণমূলের থেকে অন্তত এক লক্ষ ভোটে পিছিয়ে ছিল সিপিএম। একমাত্র আশাভরসা যাদবপুর বিধানসভা। সুজনবাবুর বিধানসভা কেন্দ্র।

যাদবপুরের ‘কলোনি বামপন্থা’ এক সময় রাজ্য রাজনীতির ‘মডেল’ ছিল। আদ্যোপান্ত রাজনৈতিক এলাকা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে জিতিয়েছিল৷ আবার এই অঞ্চলই রাজনীতিতে আনকোরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরণ ঘটিয়েছিল৷তাই এবার যাদবপুর কি ভাবছে সেটাই ভাবাচ্ছে শাসক-বিরোধী সব দলকেই৷