সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা: বিদ্যাসাগর মহাশয়ের মূর্তিকাণ্ডের পরে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল ‘আমি বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র’ পোস্ট। সোশ্যাল মাধ্যমের নয়া ট্রেন্ড যাদবপুরে বাসিন্দা মানে তিনি অশিক্ষিত। কারণ কি? যাদবপুরের লোকসভা কেন্দ্রের বাসিন্দারা বাম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে বেছে না নিয়ে জয়ী করেছেন তৃণমূলের মিমি চক্রবর্তীকে। অনুপম হাজরাকে পিছনে ফেলে দিয়েছে মিমির জনসমর্থন।

প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার পর থেকেই মিমিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তুলোধোনা করেছে। কারনে অকারনে সোশ্যাল মাধ্যমের যেন টার্গেট হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তিনি যাই করেন ট্রোল হয়ে ভাইরাল হয়ে যায়। এত নেগেটিভ প্রচারের পরেও যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তিনি তাঁর দুই প্রার্থীকে লক্ষাধিক ভোট পিছনে ফেলে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছেন। আর এটাই যেন কাল হয়ে গিয়েছে তাঁর? সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট করা হচ্ছে তাঁর ভোটে জিতে যাওয়া নিয়ে। লেখার ধরন ঘুরে ফিরে একটাই , ‘যাদবপুরে যারা থাকেন তারা অশিক্ষিত’ অথবা ‘যাদবপুরের বাসিন্দারা অশিক্ষিত মিমিকে ভোটে জিতিয়েছেন।’

কেউ লিখেছেন, ‘যাদবপুরের বাসিন্দা, লজ্জা করছে বলতে’। এমন মিমও বানানো হয়েছে যেখানে দেখানো হয়েছে যে, দুই ব্যাক্তির কথোপকথন চলছে। এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে তার বাড়ি অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলছেন, যাদবপুরে থাকেন শুনে অনেকে তাকে অশিক্ষিত বলছেন। লজ্জায় তিনি ঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় বাড়ির গড়ার কথা জানাচ্ছেন। কয়েকটি মিমে তাঁকে নিয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত পূর্ণ কথাও বলা হয়েছে। সোজাসুজি মিমিই অশিক্ষিত এমন মিমের দেখা মিলেছে। মাঝে নুসরতকে লক্ষ্য করেও কয়েকটি মিম করা হয়েছে। তারও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে যাদবপুরে অশিক্ষা হার বেশি এমন পোস্টের দেখা মিলেছে বেশি।

এই পোস্টের পালটা পোস্টের দেখা মিলেছে। কেউ লিখেছেন , “যাদবপুরের মানুষকে অশিক্ষিত বলেছেন, তারা নিজেরা সত্যি কি শিক্ষিত?? যাদবপুর কে অশিক্ষিত বলেছেন?? ছি ছি ছি!!!” আবার কেউ লিখেছেন , “হারার পরে ‘যাদবপুরের মানুষ অশিক্ষিত’ বলার ঔদ্ধত্যই বামেদের হারের মূল কারণ, যাদবপুরের মানুষের অশিক্ষা নয়।”

সুভাষ জানা নামে ফেসবুক ইউজারের যুক্তি , “অনেকে দেখলাম বিকাশবাবু যাদবপুরে জেতেননি দেখে যাদবপুরের মানুষদের অশিক্ষিত বলছেন। তাদের কি জানা আছে যাদবপুরে এর আগে গুনে গুনে মাত্র পাঁচ বার বামপন্থীরা জিতেছেন, বাকি সব বার হয় কংগ্রেস নয় টিএমসি এখানে জিতে এসেছে।। কি প্রবলেম হয়েছে?? এছাড়া যাদবপুরে স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৯০%। ৭৭ সাল থেকে দুবার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় , একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , দুবার মালিনী ভট্যাচার্য্য, তিনবার কৃষ্ণা বসু, একবার সুজন চক্রবর্তী, একবার কবির সুমন, একবার সুগত বসু জিতেছেন। এখানকার কি কোনও ক্ষতি হয়েছে? এখানকার ভোটাররা সত্যিই গণতান্ত্রিক।। আপনারা তাদের অশিক্ষিত কিভাবে বলেন জানতে পারি কি?”

এও লেখা হয়েছে “যাদবপুরের মানুষেরা কিন্তু বিজেপিকে জেতায় নি , যাদের বুক দুঃখে ফেটে যাচ্ছে এখানে মিমি জিতেছে বলে, যাদবপুরে না থেকেও হঠাৎ দরদ উথলে উঠেছে, যাদবপুরের মানুষদের খিল্লি করছে, তাদের অশিক্ষিত বলছে তাদের শিক্ষা দীক্ষা নিয়ে সত্যি সন্দেহ আছে।” অনেকে যাদবপুর এবং যাদবপুর লোকসভার পার্থক্য বুঝিয়ে এলাকার মানরক্ষার চেষ্টা করেছেন।

প্রসঙ্গত মিমির শিক্ষাগত যোগ্যতা, ২০১১ সালে আশুতোষ কলেজ থেকে তিনি কলা বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন। সদ্য প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশের নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে ২৭ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বাদশ শ্রেণীতেই শেষ হয়েছে। ২০১৪ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ২০ শতাংশ।