অভিষেক কোলে: রবিবাসরীয় ইডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে নতুন মরশুমের আইপিএল অভিযান শুরু করবে কলকাতা নাইট রাইডার্স৷ লড়াই শুরুর আগে পুরদস্তুর প্রস্তুতিতে মগ্ন কেকেআর৷ ইডেনে দলের অনুশীলনের ফাঁকে নাইটদের হেড কোচ জ্যাক কালিসকে আসন্ন মরশুম নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী শোনাল৷ ব্যাটিং-বোলিং উভয় বিভাগেই একাধিক বিকল্প হাতে থাকায় এবার কম্বিনেশন নিয়ে তাদের ভাবতে হবে না বলেই মত নাইট কোচের৷ তবে কালিসকে উচ্ছ্বসিত শোনাল লিন, নারিন, রাসেলের মতো পাওয়ার হিটার ও দলে একাধিক অলরাউন্ডারের উপস্থিতি নিয়ে৷

দলের প্রস্ততি ও ভারসাম্য নিয়ে কালিস বলেন, ‘প্রস্তুতিতে খামতি নেই৷ অন্যান্য মরশুমের থেকে এবার ছেলেরা আরও ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে৷ দলে ভারসাম্য রয়েছে৷ টুর্নামেন্টে আলাদা আলাদা পিচে খেলতে হবে আমাদের৷ সব পরিস্থিতির জন্যই উপযুক্ত কম্বিনেশন রয়েছে আমাদের হাতে৷ তবে এটা ঠিক যে, মাঠে নেমে পারফরম্যান্স করতে হবে৷ দল কেমন দেখাচ্ছে, তাতে কিছু যায় আসেনা৷ সব বিভাগেই আমাদের হাতে বিকল্প রয়েছে৷ আমাদের বেঞ্চ স্ট্রেনথ দারুণ৷ দু’একটা চোট আঘাতের বিষয় লেগেই থাকে৷ সেক্ষেত্রে পরিবর্ত ক্রিকেটার খুঁজতে অসুবিধা হবে না৷’

আরও পড়ুন: কেকেআরের প্র্যাকটিস দেখতে সমর্থকদের জন্য খুলছে ইডেনের দরজা

গতবারের সঙ্গে আসন্ন মরশুমের তুলনা টেনে কালিস জানান, ‘ইতিবাচক দিক হল, পেস বোলিংয়ে আমাদের হাতে বেশ কিছু বিকল্প রয়েছে৷ গত মরশুমে দু-একটা পেসারের খামতি ছিল৷ এবার সেটা পাওয়া গিয়েছে৷ ব্যাটিংয়ের দিক থেকে দেখলে, গত মরশুমে আমাদের ব্যাটসম্যানরা দারুণ পারফরম্যান্স করেছে৷ তাছাড়া যে কোনও কম্বিনেশনই তৈরি হোক না কেন, আমাদের হাতে বেশ কয়েকজন পাওয়ার হিটার রয়েছে৷ যদিও আগে ভিতটা তৈরি করার দিকে আমাদের নজর থাকবে৷ তার পর ব্যাটসম্যানদের হাত খোলার লাইসেন্স দেওয়া যাবে৷’

আন্তর্জাতিক ম্যাচ হোক, অথবা আইপিএলের মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, ইডেনের পিচ নিয়ে বরাবর জোর চর্চা চলে৷ এবার বাইশগজের চেহারা এখনও পরিস্কার না হলেও কালিস আসাবাদী স্পোর্টিং পিচ হাতে পাওয়া নিয়ে৷ ইডেনের বাইশগজ প্রসঙ্গে কালিস বলেন, ‘ইডেনের পিচ আগের থেকে আলাদা হবে বলে মনে হয় না৷ ইডেন সবসময় ভালো পিচ উপহার দেয় আমাদের৷ পিচে গতি ও বাউন্স থাকে৷ শুরুতেই আমাদের হাতে হোম অ্যাডভান্টেজ রয়েছে৷ প্রথম দু’টি ম্যাচে সেটা যথাযথ ব্যবহার করতে হবে৷’

আরও পড়ুন: নারিনে আস্থা নাইটদের স্পিন বোলিং কোচের

লোকসভা ভোটের ভরা মরশুমেও ইডেন থেকে সরেনি আইপিএল ম্যাচ৷ এটা কেকেআরের কাছে বাড়তি পাওনা বলেই মনে হয়েছে কালিসের৷ নাইট কোচের কথায়, ‘সব হোম ম্যাচগুলো ইডেনে খেলা হবে৷ এটা আমাদের কাছে বাড়তি পাওনা৷ আমরা সব সময় নিজেদের সমর্থকদের সামনে ক্রিকেট খেলতে চাই৷ এখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল৷ তাছাড়া ইডেন সর্বদা আমাদের আকুণ্ঠ সমর্থন করে এসেছে৷ স্বাভাবিকভাবেই ইডেনে সব ম্যাচ খেলতে পারা আমাদের কাছে বোনাস সন্দেহ নেই৷’

বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড প্রসঙ্গে কালিসের মত, ‘ক্রিকেটাররা সবাই পেশাদার৷ ওরা বোঝে কখন বিশ্রামের প্রয়োজন৷ আমাদের সাপোর্ট স্টাফ, ফিজিও, ট্রেনাররা নিজেদের কাজে পারদর্শী৷ ওদের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে৷ ওরা জানে কিভাবে ক্রিকেটারদের ব্যবহার করতে হয়৷ কাদের বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজন, সেটা ওরা নিশ্চিত ভালো বুঝবে৷’

আরও পড়ুন: নাইট সমর্থকদের পথ অবরোধের পর গেট খুলল ইডেনের

লিন-নারিনের ওপেনিং জুটি ও স্কোয়াডে রাসেলের মতো অলরাউন্ডারের উপস্থিতি নিয়ে কালিস বলেন, ‘নারিন এবং লিনের ওপেনিং জুটি আগেও আমাদের সাফল্য এনে দিয়েছে৷ তবে টি-২০ ক্রিকেটে কোনও কিছুই নিশ্চিত নয়৷ এবার আমাদের হাতে আরও কিছু বিকল্প রয়েছে৷ এই ফর্ম্যাটে প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সব কিছুই বদলে যায়৷ আর অলরাউন্ডাররা যে কোনও দলের সম্পদ৷ দলে ভারসাম্য বাড়ায় অলরাউন্ডাররা৷ অলরাউন্ডার থাকা মানে ব্যাটিংয়ে গভীরতা বাড়ে৷ আমরা ভাগ্যবান আমাদের হাতে রাসের, নারিনের মতো একাধিক অলরাউন্ডার রয়েছে৷’

শেষে কুলদীপকে নিয়ে কালিস জানান, ‘কুলদীপ আগের দিনই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে৷ জাতীয় দলের হয়ে ও ভালো ক্রিকেট খেলে এসেছে৷ বেশ কিছুটা বিশ্রাম পেয়ে যাওয়া তরতাজা হয়ে মাঠে নামতে পারবে ও৷’