গুগল থেকে প্রাপ্ত ছবি।

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘কি চলছে দাদা? ওপর ব্যক্তির উত্তর শুধুই ফগ চলছে’। পশ্চিমবঙ্গে আবহাওয়ার এমনই পরিস্থিতি। বুধবার ভোরের পরে আর বৃষ্টি না হলেও দৃশ্যমানতা কম রয়েছে। তার কারণ কুয়াশা এবং মেঘলা আকাশ। ফলত ভোরের দিকে রাস্তায় যারা বেরিয়েছেন তাঁদের সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ সমস্যায় ছিলেন গাড়ি ও ট্রাক চালকরা। অন্তত আরও ২৪ ঘণ্টা ভোরের দিকের কুয়াশার দৃশ্যমানতা কমে হতে পারে রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চলের। এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা-সহ রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বুধবার সেরকম ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর আকাশ পরিষ্কার থাকবে। এদিন কুয়াশার দাপট ছিল কলকাতা-সহ পাশ্ববর্তী এলাকায়।

বুধবার সকাল থেকে অনেকেই ভেবেছিলেন আকাশ মেঘলা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, কুয়াশার দাপটের জন্যই এই মেঘলা আকাশ রয়েছে। তবে আগামী ২ দিন বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া দফতর সূত্রে। এবার আকাশ পরিষ্কার হলে দিনের তাপমাত্রা বাড়বে বলেও জানানো হয়েছে। ভোরের দিকে হাল্কা শীতের আমেজ বজায় থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। সকাল সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত বেশিরভাগ স্থানেই দৃশ্যমানতা ২ থেকে ৪ কিলোমিটারের মধ্যে। একমাত্র শ্রীনিকেতনের দৃশ্যমানতা ১০ কিলোমিটার। কলকাতা, আসানসোল , বাঁকুড়ার আকাশে মেঘের পরিমাণ যথাক্রমে ৬৩, ৬৩ এবং ৫০ শতাংশ। কোচবিহারের আকাশ ১০০ শতাংশই মেঘে ভরতি।

ডায়মন্ড হারবার এবং দমদম অঞ্চলের ৮৮ শতাংশ মেঘে ঢাকা। কলকাতা, আসানসোল , বাঁকুড়ার কোচবিহারে ডায়মন্ড হারবার এবং দমদম এই সমস্ত অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ যথাক্রমে ৭.৩, ০.১, ০.৮ মিলিমিটার, কোচবিহারে ৪১.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং বাকি দুই অঞ্চলের মধ্যে ডায়মন্ড হারবারে বৃষ্টি হয়নি (ব্যস্তিক্রম)। দমদমে বৃষ্টির খবর নেই।

উপকূলবর্তী অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সেই অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত কাঁথি ও দিঘায় বৃষ্টির পরিমাণ যথাক্রমে ১৩.২ এবং ৮.২ মিলিমিটার। শ্রীনিকেতনে ০.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের আপাতত আকাশ পরিষ্কার থাকবে। দিনের তাপমাত্রা বাড়বে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া দফতরের তরফে। আপাতত ঝঞ্ঝা বিদায় হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে হাওয়া অফিস।

ফেব্রুয়ারির শেষ রবিবার থেকে টানা পাঁচদিন দফায় দফায় উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রাও নেমে গিয়েছিল এক ধাক্কায়। মাঝে ক’দিনের থেমে কালো মেঘ সরে গিয়ে রোদ্দুরের দেখা মিলেছিল। এরপর গত রবিবার থেকে ফের বৃষ্টির ভ্রূকুটি দেখা যায়। বাংলাদেশের ওপর তৈরি হয়েছিল একটি ঘূর্ণাবর্ত। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের ওপরে ছিল একটি উচ্চচাপ। যার ফলে সমুদ্র থেকে স্থলভাগে ঢুকছে প্রচুর জলীয় বাস্প। এর ফলেই বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। তার সঙ্গে পশ্চিমি ঠান্ডা হাওয়ার সংঘাতে তৈরি হচ্ছিল বজ্রগর্ভ মেঘ। তবে ভোরের দিকে ঠাণ্ডাভাব এখন বজায় থাকবে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ