সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কলকাতা থেকে দিল্লি, গরম ও আর্দ্রতায় নাকাল। বুধবার কলকাতার তাপমাত্রা ছিল ৩৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি সময়ের স্বাভাবিক হলেও দিনভর নাকাল করেছে অতিরিক্ত আর্দ্রতা। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমেছে। এদিন কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে তিন ডিগ্রি কম।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি । এদিনও আর্দ্রতা নাকাল করেছে শহরবাসীকে। সর্বোচ্চ আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৯ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৬৪ শতাংশ। বাতাসে দক্ষিণ পশ্চিমী বায়ুর ব্যাপক প্রভাবের জেরে এই অতিরিক্ত আর্দ্রতা বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।

গোটা দেশ জুড়েই অবশ্য গরমের দাপট চলছে, ওডিশার ভবানী পাটনার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০.০ দিগ্রি সেলসিয়াস, ঝরসুগুরার তাপমাত্রাও পৌঁছে গিয়েছে ৪০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সুন্দরগড়ের তাপমাত্রা ৩৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পুনের তাপমাত্রা ৪০.৫, নাসিকের ৪০.৪, বরোদার ৪১.৬, ঔরঙ্গাবাদের ৪১.৪, দিল্লিতে ৩৮.২, ডালটনগঞ্জের তাপমাত্রা ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট জানিয়েছে ৯৩ শতাংশ বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷ মে-জুলাই মাসে ৬৬ শতাংশ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ৷ সেই দিক থেকে বিচার করলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ৯৩ শতাংশ বৃষ্টিপাত ৷ মে-জুলাই মাসে ৬৬ শতাংশ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ৷ জুলাই মাসে ৫৫ শতাংশের কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা করা হয়েছে ৷ জুন মাসে ৭৫ শতাংশের কম বৃষ্টিপাত হবে বলেই মনে করা হয়েছে ৷ সব মিলিয়ে সারা বছরজুড়ে ৯৩ শতাংশ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ৷ সেই দিক থেকে বলা যেতে পারে যে মোটের উপর বৃষ্টিপাত হবে৷

সব মিলিয়ে সারা বছরজুড়ে ৯৩ শতাংশ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ৷ সেই দিক থেকে বলা যেতে এ বার গোটা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে সাত শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনোকেই এর জন্য দায়ী করছে স্কাইমেট। যদিও এল নিনো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং জুন পরবর্তী সময়ে তার দাপট আরও খানিকটা কমার সম্ভাবন রয়েছে।

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে ভ্যাপসা গরম চলবে। বিগত দিন এক সপ্তাহ ধরে এই পরিস্থিতি চলছে দক্ষিণবঙ্গের রাজ্যগুলিতে। এই পরিস্থিতি এখন রেহাই মিলবে না বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। আগামী ২৪ ঘণ্টায় মেঘলা থাকবে কলকাত। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় অল্পবিস্তর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে তবে তা খুবই সামান্য। দক্ষিণবঙ্গে বর্ধমানের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পৌঁছেছে। পুরুলিয়ার তাপমাত্রা ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কৃষ্ণনগরের তাপমাত্রা ৩৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পানাগড়ের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাঁকুড়ার তাপমাত্রা ৩৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টির বেশি সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গে।