নয়াদিল্লি: ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। এরই মাঝে পালিত হয়েছে ইদ। কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তকে ভাল চোখে দেখছেনা কেউই। তবে বিরোধিরা তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড়। ওমর আবদুল্লা থেকে মেহবুবা মুফতি সকলেই হয়েছেন গৃহবন্দি।

সত্য-মিথ্যার নিরিখে বর্ষীয়ান নেতা ফারুক আবদুল্লার সঙ্গে কড়াকথার আদানপ্রদান হয় কেন্দ্রের, চলে বাকবিতণ্ডা, দোষারোপ। এসবের মাঝেই মেহবুবাকন্যা ইলতিজা মুফতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে চিঠি লিখেছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মিডিয়াতে আবারও মুখ খুললে ভয়ানক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে, বারবার এই হুমকি আসছে তার কাছে।

মেহবুবা মুফতির গ্রেফতারের খবরের ঠিক দু’দিন পর জাতীয় সংবাদমাধ্যমে ইলতিজা একটি ভয়েস মেসেজ প্রকাশ্যে এনেছে যেখানে সে স্পষ্ট বলেছে তাকে আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে সে লিখেছে, “যখন দেশের বাকিরা ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে সেইসময় কাশ্মীরিরা জন্তুদের মত খাঁচার ভিতর রয়েছে। মানুষের প্রাথমিক অধিকারগুলি থেকে তাঁরা বঞ্চিত।”

তিনি আরও লিখেছেন, “এই ধরণের আচরণ খুবই দমবন্ধকর ও অপমানজনক। আমার বৃদ্ধ ঠাকুমা তাঁর ছেলের সাথে দেখা করবেন সেই অনুমতির জন্য কি এখন আমাকে পদলেহন করতে হবে। ওই বৃদ্ধাও কি একটা সম্ভাব্য হুমকি।”

এই প্রসঙ্গে সে আরও প্রশ্ন করেছে যে, কেন তাকে আটকে রাখা হয়েছে তা সরকার জানাতে হবে। মেহবুবা মুফতির গ্রেফতারের পরেই অমিত শাহকে পাঠানো তাঁর চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, “আমার সঙ্গে একজন ক্রিমিনালের মতন আচরণ করা হচ্ছে। আমি সারাক্ষণ নজরদারিতে আছি। আমি আমার জীবন নিয়ে খুবই ভয়ে আছি। পাশপাশি সেই সব কাশ্মীরিদের নিয়ে যারা এই বিষয় নিয়ে তাঁদের মতামত দিয়েছেন।”

এর আগে ইলতিজা মুফতি মোদী সরকারকে দোষারোপ করে বলেছিলেন, মেহবুবা মুফতিকে গ্রেফতার করে সরকার তাঁর মা’য়ের মনোবল ভেঙ্গে দিতে চাইছে। মেহবুবা মুফতি এরপরই সরকারকে এই সিদ্ধান্তের জন্য সর্বনাশা পরিণতির কথা উল্লেখ করেন তাঁর টুইটে। তিনি স্পষ্ট বলেন, ভারত সরকার এখানকার মানুষকে ভয় দেখিয়ে কাশ্মীর দখল করতে চায়।”

এদিকে হাউস অ্যারেস্ট হওয়ার আগেই টুইট করে নিজেদের গৃহবন্দি হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তিনি লিখে ছিলেন, যে কোনও মুহূর্তে হাউস অ্যারেস্ট হতে পারি। সরকার সেই প্রচেষ্টাই শুরু করেছে। একই সঙ্গে গৃহবন্দি হওয়ার সম্ভাবনা উস্কে ওঠে অপর আরেক মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিকে ঘিরেও। এর কিছুপরেই একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দুই নেতাকেই গৃহবন্দি করা হয়েছে। মেহবুবা মুফতিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে একটি গেস্ট হাউসে রাখা হয়েছিল।

দ্বিতীয় দফায় নরেন্দ্র মোদী সরকার তিরিশটির ওপরে বিল পাশ করেছে। ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কাশ্মীরের স্পেশাল স্ট্যাটাস মুছে গেছে। কাশ্মীর এখন অভিন্ন ভারতের একটি অংশ।