সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: আকাশ ভরা, সূর্য তারা। বিশ্ব ভরা প্রাণ , তাহারই মাঝখানে। আমি পেয়েছি মোর স্থান। বিস্ময়ে তাই জাগে…….’ আজ বিশ্বকবি থাকলে করোনাক্রান্ত পৃথিবীর আকাশের দিকে তাকিয়েতাঁর গানের কথা নিশ্চিত পরিবর্তন করতেন। হয়তো সন্ধ্যার আকাশের দিকে তাকিয়ে লিখতেন, ‘আকাশ ভরা, চাঁদ তারা। বিষে ভরা বিশ্ব, বিশ্ব ভরা নিষ্প্রাণ, তাহারই মাঝখানে। আমি পেয়েছি মোর স্থান। বিস্ময়ে তাই জাগে……কেন পেয়েছি মোর স্থান?’ এ এক অদ্ভূত পরিস্থিতি।

যে পরিস্থিতি মানুষ চায়, আবার এই পরিস্থিতি এই কারণের জন্য আসুক সেটা চায়না। ব্যখ্যা কর যাক। সন্ধ্যায় আকাশের দিকে তাকালে কলকাতার মানুষ শেষ কবে এমন স্পষ্ট সপ্তর্ষিমন্ডল দেখতে পেয়েছে হলফ করে বলা যেতে পারে বলতে পারবেন না। কিন্তু, করোনা ভাইরাসের জেরে লকডাউন। আর তার ফলে ক্রমে শহর থেকে শহরতলি সর্বত্র বায়ুতে কমেছে বিষ। ফলে মেঘমুক্ত আকাশে স্পষ্ট ধ্রুবতারা, সপ্তর্ষিমণ্ডলরা। মিট মিট করছে একের পর ঝাঁক বেঁধে তারার দল। কি অনিন্দ্য সুন্দরই না সেই দৃশ্য। কিন্তু প্রশ্ন এখানেই।

এমনভাবে বিষমুক্ত আকাশ কি দেখতে চেয়েছিল মানবজাতি? নিশ্চিতভাবেই না। কিন্তু বাস্তব সেই ছবিটাই দেখাচ্ছে। ঝকঝকে সন্ধ্যার আকাশ। রাতের আকাশ আরও সুন্দর। পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত বলেন, এসব তো বাতাসে দূষণ কমে যাওয়ার ফল। একদিক দিয়ে ভালো আবার একদিক দিয়ে খারাপ।’

জ্যোতির্বিজ্ঞানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারী বলেন, ‘এ এক অদ্ভুত সময়। মানুষের পাপের ফল। এখন প্রকৃতি তার রূপ রঙ্গ দেখাচ্ছে’। ভূ-বিজ্ঞানী সুব্রত কুমার মিদ্যা বলেন, ‘সব খারাপের কিছু ভালো দিক থাকে। বিশ্বের অনেক নেগেটিভের এটাই আপাতত পজেটিভ। কিন্তু আমরা হয়তো আমাদের কৃত কর্মের ফল ভুগছি, যে এভাবে আমাদের সুন্দর আকাশকে দেখতে হচ্ছে।’

ফাইল ছবি

এক সপ্তাহ পূর্ন করেছে লকডাউন। আপাতত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে লকডাউন। অনেকে সমস্যায় পড়েছেন এর জেরে। এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন কি বাত অনুষ্ঠানে এসো এই লকডাউন প্রসঙ্গে বলেন, ‘রোগের নিয়মই হল শুরুতেই প্রতিরোধ করা। সেই কারণেই লকডাউন ঘোষণা হয়েছে। সবাই সেটা মেনে চলুন। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন’। তিনি এ দিন দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতবই আমরা।’ একই সঙ্গে সতর্কতার বার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘লকডাউন অমান্য করা মানে জীবন নিয়ে খেলা’।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।