সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : পেঁয়াজের সেঞ্চুরি হাঁকানোর এক মাস হয়ে গেল। বাঙালি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। অনেক পরিবারে পেঁয়াজ ঢুকছেই না। নয়তোবা কোনওমতে না আনলেই নয় করে চালাতে হচ্ছে বাজার। পেঁয়াজ কিনলে অন্য কোনও সবজিতে কাট মারতে হচ্ছে। গত এক মাসে পেঁয়াজের ঝাঁঝালো গল্প এমনটাই।

সেঞ্চুরি সুখের হয়, কিন্তু সংসার সুখের নয় পেঁয়াজের সেঞ্চুরিতে। অন্তত গত এক মাস ধরে এমনই অবস্থা রাজ্যবাসীর। এখন বিষয়টা ধাতস্থ হয়ে গিয়েছে পেঁয়াজের চড়া দাম ঠিক যেমন সয়ে যায় কড়া শীত। আজ থেকে এক মাস পাঁচ দিন আগে বিষয়টা এমন ছিল না। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা পেঁয়াজের দাম শুনলেই বুকের বাঁ দিকে হাত রাখতে হয়েছে আম জনতাকে। ৪০ থেকে ক্রমে ৬০, ৮০ হয়ে একদম সেঞ্চুরি। কুড়ির গুণিতকের মত দাম বেড়েছে পেঁয়াজের।

১৫০ টাকা প্রতি কেজিতেও ছুঁয়েছিল হেঁশেলের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই সবজির দর। তারপর থেকে কখনও ১২০ তো কখনও ১৪০ এর নীচে আর পেঁয়াজ নামেনি। ২৯ ডিসেম্বর আজও ভালো পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম। পচা পেঁয়াজ থেকে বেছে নিতে পারলে তা বিক্রেতারা দিচ্ছেন ১০০ টাকায়। আপনি কেঁদেকেটে পায়ে পরে গেলেও সেই দাম ১০০-র নীচে নামছে না। মিশর হবে পেঁয়াজের ঝাঁঝের দোসর। এমন স্বপ্নও দেখিয়েছিল কেন্দ্র, কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। ঘটনা হল সাধারণ মানুষ যে পেঁয়াজ কিনছে ১০০-র বেশি টাকা খরচ করে সেটাই যখন চাষির থেকে কেনা হচ্ছে তখন তাঁর ট্যাঁকে ১০ টাকাও যাচ্ছে না। ফল যে মারাত্মক, তা স্পষ্ট। কিন্তু সুরাহা হওয়ার লক্ষন নেই।

আরও পড়ুন- রাজ্যে ১০০০ দেশি বিলিতি মদের দোকানের লাইসেন্স বাতিল করল নবান্ন

ঘা খেতে খেতে মানুষ একসময় অভ্যস্ত হয়ে যায়। রাজ্যের আম জনতার অবস্থাও অনেকটা তেমনই। সুফল বাংলার স্টলে ৫৯ টাকা পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে বটে, কিন্তু বিশাল লাইন পেরিয়ে বহু কাঙ্ক্ষিত পেঁয়াজ ব্যাগে আসার আগে শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিরক্ত হয়েই ‘প্যাভিলিয়ন’-এ ফিরে যাচ্ছেন। যা অবস্থা, পেঁয়াজও যেন দূর থেকে বলছে , ‘ওরে আমায় দলে নে রে’। কিন্তু এমন বেলাগাম খেলোয়াড়কে দলে এক কথাতেই নিয়ে নেয়, কার সাধ্যি! ফল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেঁয়াজ ছাড়াই বাড়ি ফিরছে বাজারের ব্যাগ।

রবিবারে ব্যাগে মাংস থাকছে, কিন্তু পেঁয়াজ? না, তার দেখা নেই। অনেক পরিবারের কর্তা গিন্নিকে পেঁয়াজকলি অথবা কয়েক কোয়া রসুন নিয়ে এসে পেঁয়াজ ছাড়া রান্নার টোটকা দিচ্ছেন। উপায় নেই, করতে হচ্ছেও সেটাই। কিছু না হলে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ ব্যাগে নিয়ে সেটাই কুঁচো কুঁচো করে সারা সপ্তাহ চালানোর চেষ্টা করছেন অনেকে।

শিয়ালদহ কোলে মার্কেটের পেঁয়াজ পট্টির ব্যবসায়ীরাও বেশ চিন্তায় পড়েছেন। এর আগে কখনও পেঁয়াজের দাম এতটা বাড়তে দেখেনি শহরবাসী। আবারও প্রশ্ন । দাম কবে ১০০-র নীচে নামবে ? উত্তর অজানা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও