সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা: ফাগুনে উধাও আগুন। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ ডিগ্রি কম। রবিবারের বাজারে যারা ব্যাগ দুলিয়ে সকালে বাজার করতে যান তাদের মুখে আলোচনা একটাই। রোদ আছে, আকাশ পরিস্কার কিন্তু ফিলিং ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা। অন্তত সকাল দশটা পর্যন্ত গায়ে চাপা দিতেই হচ্ছে। দুপুরের দিকেও পাখা চালানোর এখনও দরকার পড়ছে না। এসব হবে নাই বা কেন ? শীতল হাওয়া উড়িয়ে দিয়েছে ফাল্গুনের প্রভাবকে।

তারপর পশ্চিমি ঝঞ্ঝার হাত ধরে পাহাড়ে তুষারপাত আর সমতলে বৃষ্টি। সবমিলিয়ে হিমেল বাতাসের প্রত্যাবর্তনে হয়েছে কলকাতাসহ সারা বাংলায়। ২ মার্চ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৫ ডিগ্রি। রবিবার ১৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, জা স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ ডিগ্রি কম। অবিশ্বাস্য মনে হলেও গা থেকে এখনও উলের জামাকাপড় না চলে যাওয়া তারই প্রমাণ দিচ্ছে।

বছর দশেক আগে এমন হয়েছিল। সেই বছরও অতি সামান্য হলেও তাপমাত্রা বেশি ছিল। ২০১১, ২মার্চ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বভাবতই বাংলার পশ্চিমাঞ্চলের ঠান্ডা আরও বেশি। একে শীত বলবে না শিরশিরে শিরশিরানি সেটা ভেবেই হয়রান আম জনতা। নেটিজেনদের কথায় ‘ফিলিং ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা’।

রবিবারে শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেটিও স্বাভাবিকের চেয়ে চার ডিগ্রি কম। নেটিজেনদের ভাষায় কোনও ভুল আছে কি ? চলতি মরসুমে শীত নিরাশ করেনি পশ্চিমবঙ্গকে। ডিসেম্বরর প্রথমে একটু ঠাণ্ডা কম থাকলেও তারপ্র থেকে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা না-আসায় টানা ঠান্ডা পেয়েছে রাজ্য।

জানুয়ারির প্রথম ভাগ পর্যন্ত ঠান্ডার দাপট চলেছে। ঝঞ্ঝা বৃষ্টি সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারিতেও ভালোই ঠাণ্ডা ছিল। সম্প্রতি একটি ঝঞ্ঝা কাশ্মীর, হিমাচল, সিকিমে নতুন করে বরফ দিয়ে সরে গিয়েছে। তার পরই সেই বরফছোঁয়া বাতাস নেমে এসেছে সমতলে। তার হাত ধরেই মার্চেও পারদ ঘোরাফেরা করছে স্বাভাবিকের অনেকটা নীচে।

উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ির তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পানাগড়, পুরুলিয়া, শ্রীনিকেতনের তাপমাত্রা ১৩.১, ১৪.০, ১৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ব্যরাকপুর এবং বহরমপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উপকূলীয় কাঁথির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখনও ১২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শিলিগুড়ির তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সোমবার থেকেই আবার আকাশে মেঘ ঢুকবে নতুন পশ্চিমি ঝঞ্ঝার সৌজন্যে। সোমবার থেকে বুধবার ফের বাংলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘ ঢুকলে তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে। এবার বৃষ্টি হলে তখন পরের দিকে ঠাণ্ডা ভাব থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।