শেখর দুবে: অঞ্জন-টুটু সংঘাত মোহনবাগানের ফুটবলে “ক্রনিক ডিজিজের” আকার ধারণ করেছে। শনিবার সবুজ-মেরুনের বার্ষিক সাধারণ সভাতে মাত্রা ছাড়াল এই সংঘাত। বাগান-ফুটবল প্রশাসক এই দুই গোষ্ঠীর বিবাদ হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। সভায় উপস্থিত থাকা প্রাক্তন মোহনবাগান ফুটবলার তথা তৃনমূল সাংসদ প্রসূন বন্দোপাধ্যায় মঞ্চে উঠে এসে দুই গোষ্ঠীর বিবাদ থামান।

ঐতিহ্যের বাগানে লজ্জাজনক ঘটনার সাক্ষী থাকা প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক প্রসূন বন্দোপাধ্যায় কলকাতা২৪x৭-কে জানান, খেলা ছাড়ার পরও ফুটবলের টানেই সবুজ-মেরুনের বার্ষিক সভায় উপস্থিত থাকেন। কিন্তু টুটু বনাম অঞ্জন গোষ্ঠীর এই বিরোধ ফুটবলের জন্য অশুভ। পুরো ঘটনায় মর্মাহত প্রসূন বলেন, ‘এটা বাংলা ফুটবলের একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। মোহনবাগান শুধু বাংলা নয় ভারত এবং বাইরেও পরিচিত নাম। ক্লাবের দুই পরিচালন গোষ্ঠীর সবার সামনে এরকম ঝামেলায় জড়ানো লজ্জা এবং দুঃখের।’

সবুজ-মেরুন শিবিরে গণ্ডগোলের সূত্রপাত সৃঞ্জয় ও দেবাশিসের ইস্তফা দেওয়ার পর থেকে৷ সাংবাদিক সম্মেলনে অঞ্জন মিত্রের সমালোচনা করে পদ থেকে সরেছিলেন বাগান ফুটবলের দুই কুশীলব। কিন্তু শনিবার বাগানের সভা শুরু করা নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। ক্লাবকর্তা এবং অঞ্জন ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্বপন বন্দোপাধ্যায়রা টুটু বসুকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। মঞ্চ থেকে টুটু বসুকে মারার হুমকি ওঠে। সৃঞ্জয় বসুর সঙ্গেও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় অঞ্জন গোষ্ঠীর এক সদস্যের। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে দেখে দুই বিবদমান গোষ্ঠীকে থামাতে মঞ্চে উঠে পড়েন প্রসূন বন্দোপাধ্যায়। তাঁকেও কটাক্ষ করা হয়। প্রসূন আরও জানান, ‘আমি দেখলাম এরা কেউ কারও কথা শুনছে না। বাধ্য হয়ে মঞ্চে উঠে দুপক্ষকেই থামানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তখন বলা হয় আমি ঘোলা জলে মাছ ধরতে এসেছি। মোহনবাগানকে আমি মা মনে করি। এই ক্লাবের হয়ে ৩৪০টা ম্যাচ খেলেছি। আজ মোহনবাগান ওদের হয়ে গেল।’

বাংলার নানাপ্রান্তের মোহনবাগান সমর্থকরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। ক্লাব কর্তাদের এই লড়াই তাদেরও মনোবল ভাঙবে। প্রাক্তন মোহনবাগানী প্রসূন এই ব্যাপারটির উল্লেখ করে বলেন, ‘যা ঘটেছে তা দূর্ভাগ্যজনক। কিন্তু আশার কথা এটাই যে এতকিছুর পরও বার্ষিক সভা বন্ধ হয়ে যেতে দিইনি। প্রাক্তন বিরাচপতি অমরবাবু এবং আমি টুটুকে সভাপতি হিসেবে প্রপোজ করে এসেছি।’*–