ইন্দোর: বিশ্বকাপ পরবর্তী দেশ-বিদেশে টানা ছ’টি টেস্টে জয়, যার মধ্যে ইনিংস জয় তিনটি টেস্টে। স্বাভাবিকভাবেই সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় বোলারদের প্রতিপক্ষকে অবাধ শাসনের বিষয়টি অনুরাগীদের অজানা নয়। শনিবার বোলারদের ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্সে ভর করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টও তিনদিনেই জিতে নিল টেস্টের পয়লা নম্বর দল। একইসঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষস্থানে নিজেদের অবস্থান মজবুত করল ভারতীয় দল। স্বভাবিকভাবেই ম্যাচ জিতে উঠে অধিনায়ক বিরাট কোহলির গলায় বোলারদের দরাজ প্রশংসা।

ম্যাচ শেষে শামি-ইশান্ত-যাদব-অশ্বিনদের নিয়ে বলতে গিয়ে শব্দ হারিয়ে ফেলছিলেন ভারত অধিনায়ক। কোহলির কথায়, ‘আমি সত্যিই জানি না কী বলব। এককথায় সবদিক থেকে নিখুঁত পারফরম্যান্স। দল দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। টেলিভিশনের পর্দায় সবাই দেখেছে দলের পারফরম্যান্স, তার বাইরে গিয়ে আমার নতুন করে কিছু বলার নেই। ফাস্ট বোলাররা ফর্মের শীর্ষে বিরাজ করছে। ওরা যখন বল করে মনে হয় যেন অন্য পিচে খেলা হচ্ছে।’

দলের বোলারদের প্রশংসা করতে গিয়ে বিরাট আরও বলেন, ‘এইমুহূর্তে জসপ্রীত (বুমরাহ) আমাদের সঙ্গে নেই। ও দলের সঙ্গে যোগ দিলে আমাদের বোলিং আক্রমন সামলাতে যে কোনও দল হিমশিম খাবে। যে কোনও অধিনায়কের কাছে এটা একটা স্বপ্নের বোলিং কম্বিনেশন। যে কোনও মুহূর্তে বল তাঁদের কাছে আসবে জেনে দলে স্লিপ ফিল্ডাররা সবসময় তটস্থ থাকে। শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ যে কোনও দলের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বল হাতে সবচেয়ে সফল বঙ্গ পেসার মহম্মদ শামি। শামি নেতৃত্বাধীন ভারতীয় পেস বোলিং বিভাগের ঝুলিতে প্রথম টেস্টে এসেছে ১৪টি উইকেট। বাকি ৫ উইকেট ফিঙ্গার স্পিনার রবি অশ্বিনের পকেটে।

আরও পড়ুন: ধোনিকে ছাপিয়ে বর্ডারকে ছুঁলেন বিরাট

পাশাপাশি বাংলাদেশকে ইনিংস ১৩০ রানে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে জয়ের নিরিখে কিংবদন্তি অ্যালান বর্ডারকে ছুঁয়ে ফেললেন বিরাট কোহলি। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে দলনায়কের বিশেষ মাথাব্যথা নেই। কোহলি কথায়, ‘আমাদের লক্ষ্য ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও শীর্ষে নিয়ে যাওয়া। সব ঠিক পথেই এগোচ্ছে তাই রেকর্ড কিংবা নম্বর নিয়ে মাথা ঘামানোর বিশেষ অবকাশ নেই।’

আরও পড়ুন: গোলাপি টেস্টে ইডেন হয়ে উঠছে ‘দ্য লাস্ট ডেস্টিনেশন’

প্রথম টেস্ট জিতেই ভারতীয় দলের চিন্তায় ঢুকে পড়েছে ২২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা ইডেন টেস্ট। দলের প্রত্যেকের পাশাপাশি বিরাটও যে দেশের মাটিতে প্রথম ঐতিহাসিক দিন-রাতের টেস্ট খেলতে মুখিয়ে সেটা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। দিল্লি বয়ের কথায়, ‘পিঙ্ক বল টেস্ট অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে চলেছে। ভারতীয় ক্রিকেটে এটা একটা ল্যান্ডমার্ক হয়ে থাকবে।’