রোম : একে করোনায় রক্ষা নেই, তায় হিমবাহ দোসর। অনেকটা এরকমই অবস্থা করোনা বিধ্বস্ত ইতালির। শুক্রবার থেকে ইতালির অ্যালপাইন রিসর্ট এলাকায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ক্রমশ উষ্ণতার জন্য গলছে মঁ ব্লা রেঞ্জের হিমবাহ। এর জেরে পুরু বরফে চাপা পড়তে পারে ওই এলাকা। জারি করা হয়েছে সতর্কতা।

একটি ফুটবল মাঠের সমান আকারে হিমবাহ ক্রমশ গলছে বলে জানানো হয়েছে। এই গ্লেসিয়ার বা হিমবাহের নাম প্লানপিনসিএক্স। এটিই আবহাওয়ার উষ্ণতার জন্য ক্রমশ গলছে বলে জানানো হয়েছে। এই গ্লেসিয়ারের নীচেই অবস্থিত ইতালির উপত্যকা। ফলে পুরো বরফ সেখানেই জমা হবে, আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইতালির ছোট্ট শহর ক্যুরমাইয়েউর এবং ইতালি-ফ্রান্স সীমান্ত এই উপত্যকা থেকে খুব দূরে নয়। ইতালির একটি ওয়েবসাইট জানাচ্ছে ইতিমধ্যে এলাকা খালি করে দিতে বলা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। ক্যুরমাইয়েউরের মেয়র স্টেফানো মিসেরোচিও এলাকার মূল রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন, যাতে বাইরের কোনও গাড়ি এলাকার ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে।

আবহবিদরা জানাচ্ছেন পাঁচ লক্ষ কিউবিক মিটারের বিশাল বরফের চাঁই ভাঙছে। যা মিলান ক্যাথিড্রাল বা একটি বড় ফুটবল মাঠের সমান। ৮০ মিটার গভীর বা পুরু বরফের আস্তরণে ঢেকে ফেলতে পারে এই বরফের চাঁই। গত সপ্তাহ থেকেই প্রশাসনিক আধিকারিকরা গোটা এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করেছেন। তখন থেকেই চালু হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তরিত করার কাজ। আগামী ৭২ ঘন্টায় এটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বছরের এই সময়টায় সাধারণও বাইরের পর্যটক ও স্থানীয় পর্যটকের ভীড়ে জনসমাগম থাকে এই এলাকা। তবে এই বছরের ছবিটা একেবারেই আলাদা। এলাকায় শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই ছিলেন। তবে এখন তাঁদেরও সরে যেতে বলা হয়েছে নিরাপত্তার জন্য।

জুলাইয়ের শেষ থেকেই অত্যধিক গরম চলছে ইতালি জুড়ে। এই হিমবাহ গলার পিছনে অতিরিক্ত উষ্ণতার কারণই দায়ি। এই উষ্ণতার ফলে লাগাতার তাপপ্রবাহও চলছে।

ভূবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন হিমবাহে যে ফাটল ধরেছে, তা বেশ গভীর। এতে হিমবাহের স্থায়ী চলনের বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর মঁ ব্লাঁতে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে বরফপাত হওয়ায়, ওজন অনেক বেড়ে গিয়ে ফাটল ক্রমশ বাড়ছে। এক সমীক্ষা জানাচ্ছে অ্যালপাইন হিমবাহ এই শতকে ৬৫ থেকে ৯০ শতাংশ সংকীর্ণ হতে পারে। এর জন্য মূল দায়ী গ্রীণহাউস গ্যাস নির্গমণ। একে রোখা না গেলে, ইতালি সহ বেশ কয়েকটি দেশের বড় বড় শহর জলের তলায় তলিয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও