নয়াদিল্লি: গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউই কংগ্রেস চালাতে পারবে না। এমনই মত কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর। তাঁর মতে গান্ধী বা নেহেরু পরিবারের বাইরে থেকে কেউ এসে কংগ্রেসের হাল ধরতে পারবে না। এি কথা বোঝাতে গিয়ে ব্র্যাণ্ড ইকুইটির কথা বলেছেন অধীর।

ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেস নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গান্ধী ও নেহেরু পরিবারের নামে। এই পরিবার দুটির হাত ধরেই কংগ্রেস পরিচিতি পেয়েছে বলে মত অধীরের। তিনি এদিন বলেন নাম মাহাত্ম্য বলে একটা ব্যাপার রয়েছে। সেটা কংগ্রেস বহন করে। আর তা জড়িয়ে রয়েছে এই দুই পরিবারের সঙ্গে। তিনি এদিন বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলির কাজের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে আদর্শ ও নৈতিকতার অভাব দেখা যায় এই ছোটদলগুলোতে। বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে একমাত্র মোকাবিলা করতে পারে কংগ্রেসের ঐতিহ্য ও আদর্শ। আর কোনও দলের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়।

কংগ্রেস ও বিজেপির হাত ধরে দেশে দ্বিমেরু রাজনীতি বা বাইপোলার পলিটিক্সের জন্ম হয়েছে। আর কোনও দলের পক্ষে দেশের রাজনীতিতে ছাপ ফেলা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়ে এদিন অধীর বলেন, যেভাবে বিভিন্ন ছোট ছোট রাজনৈতিক দল কাজ করছে, তা নিজেদের পায়েই কুড়ুল মারার মত। এতে নিজেরাই নিজেদের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছে সাধারণ মানুষের কাছে। কারণ কংগ্রেসের মত আদর্শ ও নীতি কোনও দল মেনে চলে না। কোনও দলে এত শৃঙ্খলাপরায়ণতাও নেই।

অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মতে, কংগ্রেসের ভবিষ্যত উজ্জ্বল। আগামী দিনে বিজেপিকে সরিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে কংগ্রেসই। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাতকারে অধীর বলেন গান্ধী পরিবারের হাত ধরে কংগ্রেসের পুনরুত্থান ঘটবে। কারণ কংগ্রেসের মত এত জনপ্রিয়তা আর কোনও দলের নেই। সাধারণ মানুষ কংগ্রেসের আদর্শের জন্যই এই দলটিকে ভালবাসেন বলে মত অধীরের। তিনি জানান, ফের কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা সোনিয়া গান্ধীর ছিল না। কিন্তু রাহুল গান্ধীর পদত্যাগের পর আর কারোর পক্ষে এই দলের মানসিকতা বুঝে কাজ করার ক্ষমতা ছিল না। সোনিয়া গান্ধীই সঠিক মানুষ কংগ্রেসের হাল ধরার জন্য।

২০০৪ ও ২০০৯ সালে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বেই কংগ্রেসের অভূতপূর্ব জয় দেখেছিল গোটা দেশ। অধীরের বিশ্বাস সেই সুদিন আবার ফিরবে কংগ্রেসে। সাধারণ কংগ্রেস কর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে এনে ফের জয়ের মুখ দেখাবেন সেই সোনিয়াই। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শনিবার অধীর বলেন, মানুষ কংগ্রেসকে পরিবারতন্ত্রের খোঁটা দেয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ ছাড়া বিজেপিও যে চলতে পারবে না, সেকথা সবাই জানে।