দেবযানী সরকার, কলকাতা: সোমবার। সন্ধ্যে পৌনে সাতটা। বিধানভবনের চারতলায় কংগ্রেসের এক বর্ষীয়ান নেত্রী হঠাৎ ছুটে এসে বললেন, “তোমরা শুনেছ মৌসম নাকি নবান্নে গিয়েছে। তৃণমূলে যাচ্ছে।” সেইসময় উপস্থিত চার-পাঁচজনের মুখ থেকে বেরিয়ে এল একটাই শব্দ….কিইইইই!!! মৌসম!!!

প্রত্যেকেরই চোখ কুঁচকে গিয়েছে। কপালে হালকা ভাঁজ। কয়েকমুহূর্তের মধ্যে নিজেকে সামলে এক প্রদেশ নেতা বিরক্ত হয়ে বললেন, “যাওয়ার জন্য তো অনেকদিন ধরে পা বাড়িয়েই ছিল। কিন্তু তা বলে এভাবে যাবে!!!” বাকিদের মধ্যে তখনও বিস্ময়ের ঘোর।

এদিন চুপি চুপি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে দলের সাংসদের ‘আত্মসমর্পণ’ দেখে হতভম্ব প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা থেকে কর্মী সকলেই। এমনকি এই খবর শুনে প্রথমে নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারেননি খোদ প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র।

কারণ, সোমবার সকালেই মোবাইলে মৌসমের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি নিজেই সেকথা জানিয়েছেন। সোমেন মিত্র বলেন, “আজ সকালে মৌসমকে আমি ফোন করেছিলাম। বললাম তোমার সঙ্গে একটু কথা আছে। ও বলল মামা আমি বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যাচ্ছি। ফিরে এসে তোমায় ফোন করছি। সেই ফোন আর আসেনি।”

ভোটের মুখে প্রয়াত গনিখানের ভাগ্নির এই ডিগবাজি মেনে নিতে পারছেন না প্রদেশ নেতৃত্বে। তারা বলছেন, দলের কর্মীদের সঙ্গে মৌসম বিস্বাসঘাতকতা করেছে। কারণ যতবারই মৌসমের তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা জোরালো হয়েছে ততবারই তিনি বলেছেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করছে সংবাদমাধ্যম। কয়েকদিন আগে দলীয় বৈঠকে মামা সোমেন মিত্রের কাছেও এই অনুযোগ করেছিলেন তিনি।

ইদানিং তাঁকে নিয়ে কংগ্রেসের অনেকেরই আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল। প্রদেশের নতুন কমিটিতে মৌসমকে ফের মালদহের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিলেন সোমেন। লোকসভায় এরাজ্যে থেকে জেতা আসনের মধ্যে মৌসমকেও ধরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দলকে বুড়ো আঙুল দেখালেন তিনি। সোমেন মিত্রর বক্তব্য, “মালদহের মানুষ যাঁরা গনিখান চৌধুরীকে শ্রদ্ধা করেন, ভালোবাসেন তাঁরা ভোটবাক্সে মৌসমকে যোগ্য জবাব দেবেন।”