বিশেষ প্রতিবেদন: পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোটে জৈইশ-ই-মহম্মদের ট্রেনিং ক্যাম্পে গোলাবর্ষণ করেছে ১২টি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধ বিমান৷ মৃত্যু হয়েছে ৩০০-৪০০ পাক মদতপুষ্ট জৈইশ জঙ্গির৷ ১৯ মিনিটের ‘এয়ারস্ট্রাইকে’কেঁপে গিয়েছে পাক সেনা এবং প্রশাসন৷ প্রাক্তন ভারতীয় সেনাকর্তারা সাফ জানাচ্ছেন, বালাকোট জায়গাটি ইসলামাবাদের সেনা হেড কোয়ার্টার বা GHQ থেকে মাত্র ১০৭ কিলোমিটার দূরে৷ ওই দূরত্ব অতিক্রম করে GHQ নিশ্চিহ্ন করতে ভারতীয় বায়ুসেনার কতই বা সময় লাগতো — হয়তো আরও ২০ মিনিট৷

প্রসঙ্গত উরি থেকে বালাকোটের দূরত্ব ৮১.৪৭ কিমি।

প্রাক্তন সেনাকর্তাদের কাছে রয়েছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ বালাকোটের ওই জায়গা অ্যাবোটাবাদ থেকে ৬২.৫ কিলোমিটার দূরে৷ পাকিস্তান ডিফেন্স অ্যাকাডেমির পাশে ওই জায়গাতেই লুকিয়ে ছিলেন ওসামা বিন লাদেন৷ আমেরিকার এয়ারস্ট্রাইকেরই প্রাণ যায় ওসামার৷ ইসলামাবাদে পৌছানোর আগে পাক সেনা অ্যাকাডেমি ভারতীয় যুদ্ধবিমানের ব়্যাডারেই পাওয়া যাবে৷ GHQ এবং অ্যাকাডেমি – পাক সেনার দুই পা৷ পাক সেনাকে পঙ্গু করতে ভারতীয় বিমানবাহিনী কত সময় নেবে? মাত্র ৩০ মিনিটেরও কম৷

ভারতীয় সেনা কর্তারা আরও বলছেন, ৬৫ সালের ভুল যেন ভারত আর না করে৷ সেবারে লাহোর দখল করে নেওয়া উচিত ছিল ভারতে৷ তবে আজ মাথা তুলতে পারত না পাকিস্তান৷ পাকিস্তানের জমি দখল করার এটাই সেরা সময়৷ ভারতীয় সেনার হাতে যে মিসাইল রয়েছে তা প্রয়োগ করলে, মাত্র দু’মিনিট৷ ব্যাস! পাকিস্তানে নিজের ডেরায় খতম জঙ্গিনেতা মৌলানা মাসুদ আজহার৷ সার্জিকাল স্ট্রাইক বা মুখোমুখি যুদ্ধের কোনও প্রয়োজন নেই৷ মাত্র ১২০ সেকেন্ডেই ‘কাম-তামাম’করতে পারে ভারতীয় সেনা৷

পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে জঙ্গি হানায় ৪২ সেনা জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন৷ ঘটনার দায় নিয়েছে পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ৷ জইশের মূলচক্রী মাসুদ আজহার। তার জন্মস্থান, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর বহাল তবিয়তে বসে রয়েছে৷ জিহাদি জঙ্গি ট্রেনিং থেকে ভারত বিরোধী কার্যকলাপের পরিকল্পনা সেখান থেকেই চালাচ্ছে মাসুদ৷ এদিকে সারা ভারতে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন৷ সংবাদমাধ্যম থেকে অলিগলি সর্বত্রই এক আলোচনা, কীভাবে প্রতিশোধ নেবে ভারত? এই পরিপ্রক্ষিতেই সার্জিকাল স্ট্রাইকের ভারশন ০.২ লঞ্চ করেছে ভারতীয় বায়ু সেনা৷

ভারতীয় সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাহাওয়ালপুরে তার ডেরায় মিসাইল হামলা চালিয়ে মাসুদ আজহারকে খতম করতে পারে ভারতীয় সেনা৷ সময় লাগবে মাত্রা ১২০ সেকেন্ড৷ এই কাজের জন্য ‘লাইন অব কনট্রোল বা এলওসি’বা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে সেনার পাকিস্তানে পা রাখারও কোনও দরকার নেই৷ ভারত থেকেই মাসুদ আজহার সমেত তার ডেরাকে৷

সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলতেন, ভারতের হাতে রয়েছে কয়েক রকমের ছোট-মাঝারি রেঞ্জের মিসাইল৷ ‘ভূমি থেকে ভূমি’ ব্যালেস্টিক মিসাইল পৃথ্বী ২ এর রেঞ্জ ২৫০ কিলোমিটার৷ রাজস্থানের সুরতগড় থেকে পাক পঞ্জাবের বাহাওয়ালপুরের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার৷

ভারত থেকে অত্যাধুনিক পৃথ্বী ২ এর সাহায্যে বাহাওয়ালপুরে পাকিস্তানের পাঁচ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে জৈশ-মহম্মদের সদর দফতর ‘জামিয়া সুভান আল্লা’ মসজিদ উড়িয়ে দিতে মাত্র ১২০ সেকেন্ডই সময় লাগবে৷ ওই মসজিদেই পাক বাহিনীর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রয়েছে মৌলানা মাসুদ আজহার৷ তবে শুধু পৃথ্বী ২-ই নয়, হরিয়ানার শির্সা থেকে ‘ব্রাহ্মস’মিসাইল প্রয়োগ করে ২ মিনিটেই নিকেশ করা যায় মাসুদকে৷ শির্সা থেকে বাহাওয়ালপুরের দূরত্ব ৩১৫ কিলোমিটার৷ ব্রাহ্মসের নিখুঁত নিশানা মাত্র ২ মিনিটেই প্রাণ নেবে জৈশ-ই-মহম্মদের মাথার৷ মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন হবে ‘জামিয়া সুভান আল্লা ৷’