ফাইল ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বউবাজারের বিপর্যয়স্থল পরিদর্শন করলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী৷ বুধবার দুপুরে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন৷ এদিন ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর মেট্রো কর্তৃপক্ষকে কোনও দোষারোপ করেননি অধীর৷ তবে এই পরিস্থিতিতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের একসঙ্গে বসে পরিকল্পনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি৷ সেইসঙ্গে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের ফালতু আশ্বাস দেওয়া ঠিক হচ্ছে না৷

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ খুঁড়তে গিয়ে রবিবার ভোর রাতে বিপর্যয় হয়েছে বউবাজার এলাকায়। বুধবারও বৌবাজারের দুর্গাপিতুরি পাড়া লেনে একটি বাড়ি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি ওই এলাকার স্যাকরা পাড়া এবং হিদারাম ব্যানার্জি লেনে অনেকগুলি বাড়িতে নতুন করে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ফলে বৌবাজারে ওই তিনটি মহল্লায় এখন চূড়ান্ত দুর্দশা স্থানীয়দের। সবাই প্রাণ ভয়ে বাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন। গোটা মল্লাটি এখন কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওই এলাকার ৫২টি পরিবারকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে৷ আপাতত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ ৷

এদিন অধীর চৌধুরী বলেন, এখানে যা ঘটেছে তাতে বিশেষজ্ঞের মতামতের প্রয়োজন আছে৷ আমি এব্যাপারে বলার কেউ নয়৷ আমি এটা বলব না যে এখানে কর্তৃপক্ষের কোনও ভুল রয়েছে৷ বহুবার সার্ভে করা হয়েছিল৷ ১০.৬ কিলোমিটারের মধ্যে ৯.৬ কিলোমিটারের মতো কাজও হয়ে গিয়েছে৷ আমার মনে সার্ভের সময় হয়তো কোনও কিছু অদৃশ্য ছিল৷ প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি এই প্রকল্পে একশো কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন৷

তবে অধীরের বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের বসে একটা পরিকল্পনা করা উচিত৷ এখন অ্যাড-হক বেসিসে হচ্ছে৷ তিনি বলেন, লোকজনকে বলা হচ্ছে আজকের জন্য বাড়ি খালি কর, কালকে হোটেলে থাকো, পরশু ফিরে আসবে৷ এরমক ফালতু কথা না বলাটাই ভাল৷
ক্ষতিগ্রস্থরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন৷

এই পরিস্থিতি নিয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে তিনি জানিয়েছেন৷ মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতিমধ্যেই তিনি কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন৷

তবে শুধু অধীর চৌধুরী নন, বউবাজারের ঘটনায় মেট্রোর বিরুদ্ধে কোনও দোষারোপ করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মঙ্গলবার নবান্নে মেট্রো-রাজ্য বৈঠকের পরেও সে পথে হাঁটেননি মুখ্যমন্ত্রী। বরং একাধিক দাবির সঙ্গে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যাঁরা হঠাৎ করে বাড়ি-ঘর হারিয়েছেন, তাঁরা এখন নিঃস্ব। জামা-কাপড়, বাসন-কোসন কিচ্ছু নেই। তাই তাঁদের জীবন যাপনের জন্য পরিবার পিছু আপাতত পাঁচ লক্ষ টাকা দিক মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।