স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গভীর সঙ্কটের মুখে ভারতের অর্থনীতি। জিডিপি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৫ শতাংশে। গত ৭ বছরে এমনটা হয়নি। গত ৪ মাস ধরেই দেশের অর্থনীতি বেহাল। এই নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থমন্ত্রক থেকে তথ্য প্রকাশের পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-ও এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিল্পপতি রাহুল বাজাজ মনে করেন, শিল্পমহলের নীরবতাও এর জন্য দায়ী। তাঁর মতে, মত প্রকাশের স্বাধীনতাই এই সরকারের আমলে চলে গিয়েছে।

উদ্বেগের আঁচ বাংলাতেও। ডিমানিটাইজেশনের পর থেকেই দেশের অর্থনীতি খারাপ দিকে চলেছে, এখন তা আরও ভায়াবহ। এমনটাই মনে করেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ যোগেন চৌধুরী। তিনি kolkata24x7-কে বলেন, “আমি অনেক আগেই একথা লিখেছিলাম। যখন ডিমানিটাইজেশন হয়েছিল তখন আমি একটা আর্টিকেল লিখেছিলাম। গতকাল অমিত শাহ মিটিং করেছেন বিজনেস ম্যানদের সঙ্গে। যে ভাবেই হোক, এই অবস্থাকে কাউন্টার করতে হবে। তবে সহজে কিছু সমাধান হবে না। কারণ, ব্যাপারটা অনেকগুলি বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাই চট করে এই অবস্থা থেকে সরে আসা যাবে না।”

এই নিয়ে রবিবার সোশ্যাল মিডিয়াতেও সক্রিয় হয়েছেন তিনি। যোগেন চৌধুরীর মতে, “কয়েকজন বিজনেস ম্যান যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তা আর বলার নয়। সবাই বলছেন চাহিদা কমে গিয়েছে। তাই প্রডাকশনও কমে গিয়েছে। ব্যাপারটা ক্রমান্বয়ে ঘটছে। আমি দেখলাম খবরটা সবাই জানুক। আমরা এই খারাপ অবস্থা কেউ চাই না। অবস্থার পরিবর্তনের জন্যই খবরটাকে সামনে আনা দরকার। এরকম চলতে থাকলে মোদী গভমেন্ট পড়ে যাবে। আর্থিক সংকট না মিটলে মোদীর টিকে থাকা মুশকিল।”

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের অর্থনীতিকে পাঁচ লক্ষ ডলারে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে নরেন্দ্র মোদীর এই ভাবনা কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে বলে মনে করেন তাবড় তাবড় ব্যক্তি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর মতে, এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতির যা হাল তাতে মোদীর স্বপ্ন বাস্তব হবার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

সম্প্রতি মুম্বইয়ের একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সমালোচনা করেন বাজাজ গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান রাহুল বাজাজ। তাঁর মতে, আগে সরকারের সমালোচনা করা যেত। এখন সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান শিল্পপতিরা। শিল্পপতিদের নীরবতারও দেশের বেহাল অর্থনীতিক অবস্থার জন্য দায়ী। ডিমানিটাইজেশন এবং জিএসটি-র প্রভাব রয়েছে এর পেছনে– শিল্পপতিদের একাংশের এমন মত হলেও এতদিন সরাসরি কেউ মুখ খোলেননি। তবে জিডিপি একেবারেই কমে যাওয়ায় মুখ খুলতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কোন দিকে যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।