মুম্বই: যদি আগামী ১৫ এপ্রিল রিভাইসড শিডিউল অনুযায়ী শুরু হয় আইপিএল, তবে তা কাটছাঁট করেই হবে। শনিবার মুম্বইয়ে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

সৌরভের কথায় কাটছাঁট করে আইপিএল তখনই সম্ভব হবে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। কারণ মানুষের সুরক্ষা সবার আগে। অর্থাৎ, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সুরে সুর মিলিয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোটিপতি লিগ আয়োজনের দিকটি খোলা রাখলেন বোর্ড সভাপতি। তবে কঠিন সময়ে সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে অনুরাগী-ক্রিকেটারদের সুরক্ষাই। এমনকি সৌরভের কথায় প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবে বোর্ড।

এদিন বৈঠক শেষে সৌরভ বলেন, ‘আইপিএল ১৫ এপ্রিল থেকেই শুরু হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে যেহেতু ১৫ দিন নষ্ট হচ্ছে তাই নতুন সূচিতে কাটছাঁট আবশ্যক। তবে কতগুলি ম্যাচ বাদ যাবে সেটা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।’ সৌরভ আরও বলেন, ‘যেহেতু আমরা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর তাই প্রত্যেক সপ্তাহে আমরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখব। আমরা মানুষের সুরক্ষা নিয়েও ভীষণ উদ্বিগ্ন।’

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে শনিবার মুম্বইয়ে বোর্ডের হেড কোয়ার্টারে অনুষ্ঠিত হয় বিসিসিআই-আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক। বোর্ড সভাপতি সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্তা-ব্যক্তিরা। হাজির ছিলেন শাহরুখ খান, পার্থ জিন্দাল, নেস ওয়াদিয়া সহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকেরা। এদিনের বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদৌ আইপিএল আয়োজন করা সম্ভব কীনা, আর সম্ভব হলেও সেটা কবে আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি দর্শকহীন গ্যালারিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ আয়োজনে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সম্মতি রয়েছে কীনা, সেটাও দেখার বিষয় ছিল।

বৈঠক শেষে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের অন্যতম মালিক স্পষ্ট জানান, ‘আর্থিক ক্ষতির দিকটি একেবারেই ভাবছি না আমরা। মানুষ সবার আগে তারপর আর্থিক দিক। বৈঠকে একজোটে এটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা সরকারি নির্দেশিকা মেনেই সবকিছু করব। চলতি মাসের শেষের দিক ছাড়া কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।’ নেস ওয়াদিয়ার সুরে সুর মিলিয়েই বৈঠক শেষে টুইট করেছেন কেকেআর মালিক শাহরুখ খান। আইপিএল আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারি সমস্ত নির্দেশিকা মানা হবে। জানান বলিউড অভিনেতা।

উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিল অবধি বিদেশিদের ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে ভারত সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করায় শুক্রবার ১৫ এপ্রিল অবধি আইপিএল পিছিয়ে দেয় বিসিসিআই। কারণ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হলে বিদেশি সকল ক্রিকেটারের ভিসা পাওয়া কোনভাবেই সম্ভব হতো না। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর দাবি ছিল ক্লোজ-ডোর করা গেলেও বিদেশি ক্রিকেটারদের ছাড়া আইপিএল নৈব নৈব চ।