চেন্নাই: ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝির বাড়িতে তল্লাশি অভিযান আয়কর দফতরের৷ কানিমোঝির তুথুকুডির বাড়িতে চলে এই অভিযান৷ আয়কর দফতরের এই অভিযানকে মোদী সরকারের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ ডিএমকের৷

এবার তুতিকোরিন থেকে ডিএমকের প্রার্থী করুণানিধি কন্যা কানিমোঝি৷ ভোটের জন্য তেন্নাই ছেড়ে আপাতত তিনি নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র তুথুকুডির বাড়িতে থাকছেন৷ এদিন সন্ধ্যায় সেই বাড়িতে হানা দেয় আয়কর দফতরের আধিকারীকরা৷ চলে তল্লাশি৷ অভিযানের পর কানিমোঝি বলেন, ‘‘এই ধরণের কাজে আমরা ভীত নই৷ উলটে প্রমাণ হচ্ছে যে শাসক দল ভয় পেয়েছে৷’’

বিজেপি বিরোধী জোটের অন্যতম দল এম কে স্টালিনের ডিএমকে৷ তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেই নির্বাচনে লড়ছে দ্রাবিড়ভূমের এই দলটি৷

আয়কর দফতরের এই হানা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডিএমকে প্রধান এম কে স্টালিন৷ তাঁর অভিযোগ, ‘‘তামিলনাড়ুর বিজেপি সভাপতি তামিলিসাই সুন্দররাজনের বাড়িতেও কোটি কোটি টাকা রাখা রয়েছে৷ কেন সেখানে তল্লাশি করা হচ্ছে না?’’ স্টালিনের সংযোজন, ‘‘কেন্দ্রীয় বিভিন্ন সংস্থাকে ভোটে ব্যবহার করছে বিজেপি৷ এর থেকেই স্পষ্ট ভোটে হারার ভয় তাদের গ্রাস করেছে৷’’

সম্প্রতি তামিলনাড়ুর ভেলোরের একটি গুদাম থেকে নগদ ১১কোটি ৫০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। কাথির আনন্দ নামের এক ডিএমকে নেতার গুদাম থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এই অর্থ উদ্ধারের ঘটনার শোরগোল পড়ে যায় দক্ষিণের রাজ্যজুড়ে৷ তার ছাপ এসে পড়ে জাতীয় রাজনীতিতেও৷ আনন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে৷ একই পদক্ষেপ করা হয় ডিএমকের দুই কর্মীর বিরুদ্ধেও৷

ভোটে টাকা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অনুমান নির্বাচন কমিশনের৷ এরপরই নির্বাচনে দুর্নীতি রুখতে ভেলোর কেন্দ্রে ভোট আপাতত বাতিলের জন্য কমিশন রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানায়৷ সেই আবেদনেই মঙ্গলবার সিলমোহর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ৷ সেদিনের ঘটনার সহ্গে কানিমোধির যোগ রয়েছে কিনা চা দেখতেই এই অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে৷

এরপরই এদিন সন্ধ্যায় ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝির বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় আয়কর দফতর৷ তবে এদিনের অভিযানের পর কামিমোঝির বাড়ি থেকে কিছু উদ্ধার সম্ভব হয়নি বলেই জানা গিয়েছে৷

এর আগে পাশের রাজ্য কার্ণাটকেও হানা দেয় আয়কর দফতর৷ তল্লাশি চালানো হয় শাসক জোট শরিক জেডিএস ঘনিষ্টদের বাড়িতে৷ পরে তল্লাশি চালানো হয় মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথে প্রাক্তন দুই আপ্ত সহায়কের বাড়িতে৷

বিরোধীদের অভিযোগ, আয়কর দফতর, ইডি, সিবিআইকে ভোটের সময় ব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপি৷ যেসহ রাজ্যে বিজেপির আসন কমতে পারে বা সংগঠন দুর্বল সেখানেই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী বা তাদের ঘনিষ্টদের হেনস্থা করা হচ্ছে৷ এই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করছে বিরোধী শিবির৷