বেঙ্গালুরু: একাধিক ক্ষেত্রে দেশের বৃদ্ধির হার ‘নেতিবাচক’ হওয়ায় চলতি বছরে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে তিরিশ থেকে চল্লিশ হাজার চাকরি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷ আর সাধারণত কোপ পড়বে মধ্য-স্তরে কর্মরতদের উপরেই ৷ এমন আশংকা প্রকাশ করেছেন ইনফোসিসের প্রাক্তন চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার তথা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র বিশেষজ্ঞ টি ভি মোহনদাস পাই।

তবে এ ভাবে চাকরি চলে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র দেশের বেহাল অর্থনীতিকেই দায়ী করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন তিনি। মোহনদাসের যুক্তি, পশ্চিমি উন্নত দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে মাঝেমাঝেই কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের সম্পৃক্তি দেখা যায়। যার জেরে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সংস্থার কর্তৃপক্ষ তাঁদের মানব সম্পদকে ঢেলে সাজায়। ভারতও এবার যেন সেই পথেই হাঁটতে চলেছে বলে তাঁর অভিমত।

বর্তমানে মোহনদাস পাই হলেন আরিন ক্যাপিটাল ও মণিপাল গ্লোবাল এডুকেশান সার্ভিসের চেয়ারম্যান৷ তাঁর মতে, যেহেতু ব্যবসা দ্রুত বাড়লে, তখন কর্মীদের পদোন্নতি সুযোগ বাড়ে তেমনই আবার যখন ব্যবসায় ‘মন্দা’ আসে তখন দেখা যায় বেতনে কোপ পড়ে ছাঁটাই হয়৷ সেক্ষেত্রে একবারে নিচু স্তরের তুলনায় মধ্য স্তরে কর্মরতদের আনুপাতিক বেতন বেশি হওয়ায় তখন মানবসম্পদের পিরামিডে ভারসাম্য রাখতে দেখা যায় মাঝারি স্তরের কর্মীদের উপরই এক্ষেত্রে কোপ বেশি পড়ছে।

যা পরিস্থিতি তাতে চলতি বছরে কত কর্মী কাজ হারাতে পারেন জানতে চাইলে মোহনদাসের জবাব, মধ্য স্তরে কর্মরত প্রায় ৩০-৪০,০০০ কর্মীর চাকরি যেতে পারে। এক্ষেত্রে যা বেতন সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে, বিনিময়ে সংস্থা কর্মীর কাছ থেকে ততটা কাজ না পেলে তাঁকে বাদ দেওয়াটাই সংস্থার আর্থিক এবং সার্বিক বৃদ্ধির পক্ষে মঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়।

অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে প্রায় ওই সব কর্মীদের দক্ষতাটাই কাজ টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায় বলে ধরা হয়৷ সহকর্মীদের তুলনায় নিজেকে দক্ষ হিসেবে তুলে ধরতে না পারলে দুর্দিন অপেক্ষা করছে ওই সব কর্মীদের জন্য। এতকিছু বললেও পাশাপাশি সম্ভাব্য কর্মহীনদের জন্যও কিছুটা আশার বাণীও শুনিয়েছেন পাই। তিনি মনে করেন ওইসব সম্ভাব্য কর্মহীন হওয়া ৮০ শতাংশই তথ্যপ্রযুক্তির বদলে অন্যত্র চাকরি পেয়ে যেতে পারেন যদি তাঁরা  দক্ষ ও পারদর্শী হন।