অভিষেক কোলে: দলগত পারফরম্যান্সকে পাশে সরিয়ে রাখলে আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলির উপমায় নিঃসংকোচে বলা যায় ‘বন্যেরা বনে সুন্দর’, কোহলি সর্বত্র। এমন বহু ক্রিকেটার রয়েছেন যাঁরা জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়ান। তবে আইপিএলে তেমন একটা নজর কাড়তে পারেননি। আবার বিপরীত মেরুর ক্রিকেটারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়র লিগে রীতিমতো তারকার মর্যাদা পাওয়া সত্ত্বেও অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। বিরাট কোহলি সেই সীমিত সংখ্যক ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হোক বা আইপিএল, যখনই ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছেন, সোনা ফলিয়েছেন।

হতে পারে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে দলকে চূড়ান্ত সাফল্য এনে দিতে পারেননি। তাই বলে ব্যাটসম্যান কোহলির মাহাত্ম্য কোনওভাবেই খাটো করা যাবে না। অবশ্য আইপিএলে নেতৃত্বের নিরিখে উপমাটা একটু ভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে বলা যায়, ‘বন্যেরা বনে সুন্দর”, ক্যাপ্টেন কোহলি টিম ইন্ডিয়ায়। ইডেনে কেকেআরের বিরুদ্ধে আইপিএলের ফিরতি ম্যাচে অবশ্য ব্যাটসম্যান বিরাটকে স্টার মার্কস দিলে ক্যাপ্টেন কোহলিকেও পাস মার্কস দিতে হয়।

আরও পড়ুন: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে কাউন্টিতে পূজারা-পৃথ্বীরা

চিন্নাস্বামী তে নাইট রাইডার্স এর বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ২০৫ রান তুলেও হারতে হয়েছে আরসিবিকে। কোহলি সেই ম্যাচে ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন। ইডেনেও ব্যাঙ্গালোরের পরিকল্পনা ছিল খানিকটা একই রকম। কোহলি চেয়েছিলেন শুরুতে ব্যাট করে নাইটদের ঘরে বড় রানের বোঝা চাপিয়ে দিতে। টসে হারলেও প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ মেলায় পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হয় ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে। ইডেনে ফিরতি ম্যাচে নাইটদের সামনে জয়ের লক্ষ্যটাকে আরো একটু বাড়িয়ে দেয় আরসিবি। এক সময় ১৬০-৭০ রানে আটকে যাওয়ার লক্ষণ দেখানো আরসিবি শেষমেষ নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান তোলে। দুরন্ত শতরান করেন বিরাট।

আরও পড়ুন: কাজে এল না রাসেল ‘ঝড়’, উত্তেজক ম্যাচে ১০ রানে হার নাইটদের

ক্রিকেটীয় পরিভাষায় ‘ক্যাপ্টেনস নক’ যাকে বলা হয়, শুক্রবার ইডেনে ঠিক সেইরকম ইনিংস খেলেন ভারত অধিনায়ক। শুরুর দিকে আত্মবিশ্বাসের অভাব চোখে পড়ছিল কোহলির খেলায়। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে বিরাটের ব্যাট থেকে বেরোয় মাত্র দুটি বাউন্ডারি। যার একটি নারিনের বলে শুভমন গিলের মিস ফিল্ডিংয়ের ফসল। অপরটি প্রসিধ কৃষ্ণার বলে ব্যাটের কানা লাগার সুফল। তবে পাওয়ার প্লের পরেই ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পান কোহলি। আকাশদীপ নাথ, মইন আলী ও মার্কাস স্টোওনিসকে সঙ্গে নিয়ে যেভাবে অধিনায়কোচিত দৃঢ়তায় দলকে দু’শোর গণ্ডি পার করান বিরাট তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে কোহলি আইপিএল কেরিয়ারে নিজের পঞ্চম শতরান পূর্ণ করেন।

আরও পড়ুন: আইপিএলকে জোকার ক্রিকেট বলায় ফ্যানকে জবাব দিলেন নাইট খেলোয়াড়

শেষমেষ ৯টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৫৮ বলে ১০০ রান করে সাজঘরের পথে হাঁটা লাগান বিরাট। কোহলি ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরির গণ্ডি পার করেন ৪০ বলে। অর্থাৎ, পরের ১৭ বলে তিন অঙ্কের গণ্ডি টপকে যান তিনি।

গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই ধারাবাহিক রান করে যাওয়ার স্বীকৃতি স্বরূপ আইসিসির সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন কোহলি। ২০১৯’এর শুরুটা করেছেন একই রকম ছন্দে। এবছর এখনও পর্যন্ত একটি টেস্ট ও দুটি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন বিরাট। ওয়ানডে খেলেছেন ১১ টি। সব মিলিয়ে ৭০০’র বেশি রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। তিনটি আন্তর্জাতিক শতরান ও দুটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে ২০১৯’এ। এবার আইপিএলের শুরু থেকেই রং ছড়াচ্ছেন কোহলি। এযাবৎ বিরাট চলতি আইপিএলের ৯টি ইনিংসে ৩৭৮ রান করেছেন তিনি। একটি সেঞ্চুরি দুটি হাফ সেঞ্চুরি। রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। দল কার্যত প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেলে অরেঞ্জ কাপের দৌড়ে ভালো মতোই টিকে রয়েছেন বিরাট। এখন দেখার, ব্যক্তিগত এই পারফরম্যান্সের ঝলক দিয়ে কোহলি আরসিবি কে সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন কিনা।

ব্যাঙ্গালোর যদিও হারতে হারতে ম্যাচ জিতে যায়।আন্দ্রে রাসেলের (২৫ বলে ৬৫) অতিমানবিক প্রচেষ্টা ও নীতিশ রানার (৪৬ বলে ৮৫) অনবদ্য হাফ সেঞ্চুরির দৌলতে কেকেআর দু’শোর গণ্ডি পার করে যায় বটে, তবে শেষমেশ তাদের থামতে হয় ৫ উইকেটে ২০৩ রানে। রোমাঞ্চকর হাই-স্কোরিং ম্যাচে আরসিবি জেতে ১০ রানের ব্যবধানে।