নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার কি হোয়াটসঅ্যাপেও নজরদারি চালাতে পারে? এই প্রশ্নে একসময় শোরগোল পড়েছিল দেশে। রাজনীতি থেকে সাধারণ মানুষও জড়িয়ে পড়েছিলেন এই বিতর্কে। মঙ্গলবার শীতকালীন অধিবেশনে এই বিষয়ে কড়া আক্রমণের মুখে পড়ে ট্রেজারি বেঞ্চ।

এমডিএমকে-র সাংসদ গণেশমূর্তি প্রশ্ন করেন, হোয়াটসঅ্যাপকে ব্যবহার করে সরকারি কি নজরদারি চালাচ্ছে? উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিষণ রেড্ডি জানান, যা জানান তাতে আতঙ্কে ঘুম ছুটতে পারে সাধারণ মানুষের। তিনি জানান, তথ্য প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী যে কোনও নাগরিকের উপর নজরদারি করার অধিকার রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। প্রশ্ন হল, এর ফলে নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত?

অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ কদিন আগে দাবি করেছিল, চারটি মহাদেশে ১ হাজারেরও বেশি লোক নজরদারির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে দলিত নেতা, সাংবাদিকরা রয়েছে বলে জানিয়েছিল WhatsApp। এই মেসেজিং সফটওয়ারের তরফে জানানো হয়েছিল, এই নজরদারির ক্ষেত্রে ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল।

এই নজরদারির বিষয়ে ঝড় ওঠে ভারতীয় সচেতন মহলে। কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের তরফে। বিরোধীরা এব্যাপারে মোদী সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর ফোনেও আড়িপাতা হয়েছে। একই অভিযোগ আসে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং এনসিপি নেতা প্রফুল্ল প্যাটেলের পক্ষ থেকেও। সব মিলিয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইন ও নজরদারি বিষয় নিয়ে সরগরম সব মহল।