স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ : মেয়ের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়ে কথা বলতে বাবা ও ছেলে মিলে গিয়েছিল জামাইয়ের বাড়ি। সেখানে গিয়ে খোদ জামাইয়ের হাতে আক্রান্ত হতে হল তাঁদের। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার হরিশচন্দ্র পুর থানার জালাল এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এনআরসির জন্য কিছু জরুরী কথা বলতে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল বাবা এবং ছেলে। সেখানে যেতেই তাঁদের উপর তেড়ে আসে জামাই খুরসেদ এবং তাঁর পরিবারের লোকেরা। শুধু তাই নয় পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদেরকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টাও করা হয়। বর্তমানে আক্রান্ত বাবা- ছেলে মালদহ মেডিক্যাল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

আরও পড়ুন : ২১ জন নিরীহ কাশ্মীরিকে মেরেছে পাকিস্তান: ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক

পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের নাম জামছেদ আলী (৫০) এবং জাহাঙ্গীর আলম(২৪)। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত জামাই খুরসেদ পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে মালদহ জেলার হরিশচন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

জানা গিয়েছে, পেশায় কৃষক জামছেদ আলীর মেয়ে তাজাকারা বিবির সঙ্গে তাঁদেরই প্রতিবেশী খুরসেদ আলীর বছর চব্বিশ আগে বিয়ে হয়েছিল। বর্তমানে তাঁদের তিন ছেলেও রয়েছে। সূত্রের খবর, এতদিন ধরে সব ঠিকঠাক ভাবে চললেও, গত কয়েক বছর ধরে নানা পারিবারিক বিবাদের জেরে অশান্তি শুরু হয়৷ অভিযোগ, তাজকারা বিবির উপর অত্যাচার এবং মারধোর চালাত খুরসেদ এবং তাঁর বাড়ির লোকেরা। ইতিমধ্যে শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়তে থাকলে খুরসেদের থেকে তালাক নিয়ে নিজের বাপের বাড়ি জামছেদ আলীর কাছে এসে ওঠে তাজকারা বিবি। সেখানেই বর্তমানে রয়েছে তাজকারা।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি এনআরসি চালু হওয়ায় ভোটার তালিকা সম্প্রসারনের কাজ শুরু হয়েছে। আর এই ভোটার তালিকায় এবং ভোটার কার্ড ও আধারকার্ডে রয়েছে তাজিকারার বাবার নাম-পরিচয়। পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের কার্ড এবং আধার কার্ডে বাবার পরিচয় দেওয়া যাবেনা বলে ফরমান জারি করে তাজিকারার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোক।

আরও পড়ুন : লক্ষ্য বালাকোট, নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর গুলি বর্ষণ পাকিস্তানের

সেই ব্যাপারে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলতে যান জামছেদ আলী ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর। সেখানে গেলেই তাঁদের উপর চড়াও হয় খুরসেদের বাড়ির লোক। ব্যাপক মারধোর করে এবং হাঁসুয়া দিয়ে তাদের খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন আক্রান্তদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

পুলিশ জানিয়েছে, কোপানোর চেষ্টা করেছিল বলে জামছেদের দেহের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। এমনকি তাজিকারার ভাইয়ের হাত কেটে ফেলার অভিযোগ তুলেছে পরিবারের সদস্যরা। জানা গিয়েছে, স্থানীয়রাই কোনোরকমে তাঁদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় গ্রামেরই একটি প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে৷ পরে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় মালদহ মেডিকেল হাসপাতালে।

সূত্রের খবর, এই গোটা ঘটনায় তাজিকারা বিবির পরিবারের পক্ষ থেকে হরিশচন্দ্রপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরথেকেই পলাতক অভিযুক্ত। অভিযুক্ত জামাইয়ের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত করে মূল অভিযুক্তকে ধরে সাজা দেওয়ার ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে আক্রান্তের পরিবারকে।