বেঙ্গালুরু: ইণ্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন বা ইসরোর প্রকাশ করল চন্দ্রায়ন ২-এর ছবি৷ দ্বিতীয়বার চাঁদে মহাকাশযান পাঠাচ্ছে ইসরো৷ সেই চন্দ্রাভিযানের জন্য তৈরি হচ্ছে চন্দ্রায়ন ২৷ বুধবার চন্দ্রায়ন ২য়ের একাধিক ছবি প্রকাশ করা হয়৷ বেঙ্গালুরুর ইন্টিগ্রেশন ও টেস্টিং এস্টাব্লিশমেন্টের তরফ থেকে এই ছবি প্রকাশ করা হয়৷

তবে চাঁদে এটি প্রথম ভারতের সফর নয়৷ এর আগে ২০০৯ সালে চন্দ্রায়ন ১ উতক্ষেপন করা হয়েছিল শ্রীহরিকোটা থেকে৷ এটি চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে ও চন্দ্রপৃষ্ঠে জলের সন্ধান পায়৷ এর আয়তন ছিল ৫ ফুট বাই ৫ ফুট৷ এর খরচ পড়েছিল ৮৩ মিলিয়ন ডলার৷

৯ থেকে ১৬ই জুলাইয়ের মধ্যে যাত্রা করার কথা চন্দ্রায়ন ২-এর৷ চলতি বছরের ৬ই সেপ্টেম্বর চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করবে এই মহাকাশযান৷ চন্দ্রায়ন ২-এর তিনটি মডিউল৷ ল্যাণ্ডার (বিক্রম), অরবিটার ও রোভার (প্রজ্ঞান)৷ মূলত জলের সন্ধানে এবার চন্দ্রাভিযান ভারতের৷ এই রোভারে থাকবে মোট ১১টি অংশ৷ ভারতের ছটি, তিনটি ইউরোপের, ২টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের৷

চন্দ্রায়ন ২ উতক্ষেপন করা হবে GSLV Mk II রকেট থেকে৷ এই স্পেসক্র্যাফ্টের ওজন ৩ হাজার ২৯০ কেজি৷ ১৪ দিন এই যান চাঁদে কাটাতে পারবে৷ চন্দ্রপৃষ্ঠে একাধিক পরীক্ষা চালাবে এই চন্দ্রযান৷ ৬ চাকার একটি রোভার চন্দ্রপৃষ্ঠে ঘুরে বেড়াবে৷ চন্দ্রপৃষ্ঠকে এটি পর্যবেক্ষন করবে ও ডেটা পাঠাবে পৃথিবীতে৷

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান জি মাধবন জানান, চন্দ্রায়ন ২ ভারতের চন্দ্রাভিযানের সাফল্যের মুকুটে নয়া পালক হবে৷ ২০০৮ সালে প্রথম চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল ভারত, যা সফল হয়েছে৷ এবারও সেই সাফল্য আসবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস৷ চন্দ্রায়ন ২ চাঁদের মাটিতে ভারতের পতাকা তুলবে৷

ইসরোর কাছে চন্দ্রায়ন ২য়ের সফল উৎক্ষেপণ একটা বড়সড় চ্যালেঞ্জ৷ এমনই জানিয়ে ট্যুইট করে ইসরো৷ ইসরোর টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চন্দ্রায়ন ১য়ের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চন্দ্রায়ন ২ সফল হবে, এই আশা ও বিশ্বাস রয়েছে ইসরোর৷

ইসরোর চেয়ারম্যান বলেছেন, চন্দ্রপৃষ্টে নামার জন্য দুটি জায়গা খুঁজে বের করেছে চন্দ্রায়ন ২৷ এর মধ্যে এক জায়গায় নামা হবে৷ এই এলাকায় আরও কোনও চন্দ্রযান নামার কথা নেই৷ ফলে অবতরণে সমস্যা হওয়ার কথা নয়৷

তবে, এবার একেবারে অন্ধকার দিকটিতে চন্দ্রায়ন ২ নামবে বলে খবর৷ এই অংশটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু থেকে ৩৭০মাইল দূরে৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের এই অংশটিতে যে পাথর রয়েছে তা প্রায় ৪বিলিয়ন বছরের পুরোনো৷ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এখানেই ছিল এক বিশালকার সমুদ্র৷ সেই সমুদ্রের তরল পাথর জমাট বেঁধে চাঁদের মাটিতে এই পাথর জমেছে৷