নয়াদিল্লি: চলতি বছরের জুলাই মাসেই চাঁদের মাটি ছুঁতে রওনা দেবে ইসরোর চন্দ্রায়ন ২৷ ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো একটি ট্যুইট বার্তায় এই খবর জানিয়েছে৷ ২০০৯ সালে ভারত তার প্রথম চন্দ্রাভিযান চন্দ্রায়ন ১কে পাঠায়৷

ইসরোর কাছে চন্দ্রায়ন ২য়ের সফল উৎক্ষেপণ একটা বড়সড় চ্যালেঞ্জ৷ এমনই জানিয়ে ট্যুইট করে ইসরো৷ ইসরোর টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চন্দ্রায়ন ১য়ের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চন্দ্রায়ন ২ সফল হবে, এই আশা ও বিশ্বাস রয়েছে ইসরোর৷ এর আগে ইসরোর এক ট্যুইটে জানা গিয়েছিল, জুলাই মাসের ৯-১৬ তারিখের মধ্যে এই চন্দ্রায়ন ২ যাত্রা শুরু করবে ও এ বছরই ৬ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাঁদের মাটি সফল ভাবে ছোঁবে চন্দ্রায়ন ২৷

ইসরোর চেয়ারম্যান বলেছেন, চন্দ্রপৃষ্টে নামার জন্য দুটি জায়গা খুঁজে বের করেছে চন্দ্রায়ন ২৷ এর মধ্যে এক জায়গায় নামা হবে৷ এই এলাকায় আরও কোনও চন্দ্রযান নামার কথা নেই৷ ফলে অবতরণে সমস্যা হওয়ার কথা নয়৷

তবে, এবার একেবারে অন্ধকার দিকটিতে চন্দ্রায়ন ২ নামবে বলে খবর৷ এই অংশটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু থেকে ৩৭০মাইল দূরে৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের এই অংশটিতে যে পাথর রয়েছে তা প্রায় ৪বিলিয়ন বছরের পুরোনো৷ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এখানেই ছিল এক বিশালকার সমুদ্র৷ সেই সমুদ্রের তরল পাথর জমাট বেঁধে চাঁদের মাটিতে এই পাথর জমেছে৷

চন্দ্রায়ন ২ অভিযানে চাঁদের মাটিতে দ্বিতীয় বার পা রাখতে চলেছে ভারত৷ অপরদিকে, সেই অংশটিতে নাসাও যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে৷ উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চন্দ্রাভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ চাঁদের ওই অন্ধকার অংশটি থেকে পাথর তুলে আনবে রোবট৷ সেই পাথর পরীক্ষাগারে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে বলে জানা গিয়েছিল৷ তবে, ভারত চন্দ্রাভিযানের যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অনেক বেশি শক্তিশালী এমনটাই দাবি ইসরোর৷

মূলত জলের সন্ধানে এবার চন্দ্রাভিযান ভারতের৷ এই রোভারে থাকবে মোট ১১টি অংশ৷ ভারতের ছটি, তিনটি ইউরোপের, ২টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের৷ চন্দ্রায়ন ২ উতক্ষেপন করা হবে GSLV Mk II রকেট থেকে৷ এই স্পেসক্র্যাফ্টের ওজন ৩ হাজার ২৯০ কেজি৷ ১৪ দিন এই যান চাঁদে কাটাতে পারবে৷ চন্দ্রপৃষ্ঠে একাধিক পরীক্ষা চালাবে এই চন্দ্রযান৷ ৬ চাকার একটি রোভার চন্দ্রপৃষ্ঠে ঘুরে বেড়াবে৷ চন্দ্রপৃষ্ঠকে এটি পর্যবেক্ষন করবে ও ডেটা পাঠাবে পৃথিবীতে৷

উল্লেখ্য ১১ই এপ্রিল ইজরায়েলের বেরেশিট স্পেসক্রাফ্ট চাঁদের মাটিতে নামার সময় ভেঙে পড়৷ সেকথা মাথায় রেখে এবার যথেষ্ট সতর্ক ইসরো৷ ২০১৯ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে একবার চন্দ্রায়ন ২ লঞ্চ করার উদ্যোগ নিয়েছিল ইসরো৷ পরে তা পিছিয়ে মার্চ-এপ্রিল করা হয়৷ তবে এবার চূড়ান্ত দিন ঘোষণা করা সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে৷

ফের ভারতের কোনও মহাকাশযান চাঁদে অবতরণ করতে চলেছে৷ তবে চাঁদে এটি প্রথম ভারতের সফর নয়৷ এর আগে ২০০৯ সালে চন্দ্রায়ন ১ উতক্ষেপন করা হয়েছিল শ্রীহরিকোটা থেকে৷ এটি চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে ও চন্দ্রপৃষ্ঠে জলের সন্ধান পায়৷ এর আয়তন ছিল ৫ ফুট বাই ৫ ফুট৷ এর খরচ পড়েছিল ৮৩ মিলিয়ন ডলার৷