নয়াদিল্লি: উষ্মাপ্রকাশ করেছিল নয়াদিল্লি৷ ছবিটা প্রকাশ হতেই দেশ জুড়ে হইচই শুরু হয়েছিল৷ দেখা গিয়েছিল ইজরায়েলের একটি মদবিক্রেতা কোম্পানির বোতলের লেবেলে আটকানো মহাত্মা গান্ধীর ছবি৷ চোখে রোদচশমা, টিশার্টে প্রায় চেনাই যাচ্ছে না জাতির জনককে৷

এরপরেই মঙ্গলবার রাজ্য সভায় নিন্দা করা হয় এই বিকৃত ছবির৷ রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু গোটা বিষয়টি বিদেশমন্ত্রকের নজরে আনেন৷ বলা হয় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে৷

বুধবার এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষমা চেয়েছে ওই কোম্পানি৷ ইজরায়েলের ৭১তম স্বাধীনতা দিবসে ওই বোতলগুলি তৈরি করা হয়েছিল৷ তবে ভারতের ভাবাবেগে আঘাত করার জন্য তা বানানো হয়নি বলে দু:খপ্রকাশ করেছে ওই সংস্থা৷ ভারতের প্রতিটি মানুষ ও ভারত সরকারের কাছে এজন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেছে মালকা বিয়ার নামের ওই কোম্পানি৷

আরও পড়ুন : গাড়ির মধ্যে ধর্ষণ করে ছবি তুলে রেখেছিল আদিত্য: বিস্ফোরক অভিনেত্রী

কোম্পানির ব্র্যাণ্ড ম্যানেজার জিলাড ড্রোর এক বিবৃতিতে জানান মালকা বিয়ারের পক্ষ থেকে দু:খপ্রকাশ করা হচ্ছে৷ কোনওভাবেই দুই দেশের সম্পর্কে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রভাব পড়ুক, তা তাঁরা চাননা৷ মহাত্মা গান্ধীর জন্য যথেষ্ট সম্মান ও শ্রদ্ধার অনুভূতি রয়েছে তাঁদের৷ এই ভুলের জন্য তাঁরা ক্ষমাপ্রার্থী বলে জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে৷

ইতিমধ্যেই ওই ব্যাচের সব বোতলের উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে মালকা বিয়ার৷ ইজরায়েলের ভারতীয় দূতাবাস এই ইস্যুতে ক্ষোভপ্রকাশ করার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ বাজারে ইতিমধ্যেই এই ব্যাচের যে বোতলগুলি চলে এসেছে, তা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে কোম্পানির তরফ থেকে জানানো হয়েছে৷

এরপরেই কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয় মহাত্মা গান্ধীকে সম্মান জানানোর জন্যই ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মালকা বিয়ার৷ গান্ধীর ছবি দেওয়া ওই বোতল খুবই কম পরিমাণে উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল৷ শুধু মহাত্মা গান্ধী নন, দেশের প্রাক্তন তিন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়েন, গোলডা মেয়ের ও মেনাচেম বেজিনের ছবিও মদের বোতলের গায়ে লাগানো হয়েছিল৷

আরও পড়ুন : ‘অশ্লীল’ গানের জন্য আইনি গ্যাঁড়াকলে হানি সিং

সেই বোতলগুলির উৎপাদন অবশ্য বন্ধ করেনি ওই কোম্পানি৷ ভারতীয় দূতাবাসের আবেদনকে মাথায় রেখে মহাত্মা গান্ধীর ছবি সম্বলিত বোতলগুলিকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

উল্লেখ্য বিয়ারের বোতলের ওপর মহাত্মা গান্ধীর ছবির সর্বপ্রথম বিরোধিতা করেন কেরলের মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবি জোস৷ তিনি বলেন শান্তির প্রতীক ও ভারতের জাতির জনকের এই অপমান মেনে নেওয়া যায় না৷ দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য এ এক লজ্জাজনক অধ্যায়৷ দেশের সরকারের উচিত এই বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া৷