জেরুজালেম: গোটা বিশ্ব এই মুহূর্তে লড়াই করছে করোনা ভাইরসের সঙ্গে। ইতিমধ্যে একাধিক দেশ এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টাতে মগ্ন। তার মাঝেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ এবং মৃতের হার। যা দেখে আঁতকে উঠেছে গোটা বিশ্ব। তারই মাঝে ইজরায়েলের সেনার বায়ো কেমিক্যাল ডিফেন্স ল্যাবে তৈরি পরীক্ষা করা হোল প্রতিষেধকের প্রোটো টাইপের। যার জেরে কিছুটা হলেও এগোন গেল এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে।

সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই করোনা বিরুদ্ধে লড়াইতে সামিল হওয়ার জন্য দেশের সকল বিজ্ঞানী ও শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের জানিয়েছেন। যাতে সকলের প্রচেষ্টাতে এই ভাইরসের বিরুদ্ধে প্রতিষেধক বানান সম্ভব হয়। এই মুহূর্তে গোটা বিশ্ব এই ভাইরসের বিরুদ্ধে লড়ছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। আর সেই কারণে ইজরায়েলের তরফ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কেবলমাত্র প্রোটো টাইপের কাজ অবধি এখনও পর্যন্ত করা হয়েছে। পরীক্ষা সফল হলে তবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নেতানিয়াহুর দফতরের কর্মীদের তরফ থেকে জানা গিয়েছে আইআইবিআর ডিরেক্টর শ্মুয়েল শাফিরা জানিয়েছেন এটি এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত মন্তব্যের আগে এটি পরীক্ষা করা দরকার রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগবে। তবে জানা গিয়েছে ইতিমধ্যে সেই পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ শুরু হয়েছে। যাতে খুব তাড়াতাড়ি এই ভাইরাস রোধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেই কারণে এই দ্রুততা বলে মনে করা হচ্ছে। যাতে আর বেশী মানুষের সংক্রমণ হওয়ার আগেই রোধ করা যায় এই ভাইরাস।

আগেই আইআইবিআর প্রধান ইরান জাহাভি জানিয়েছিলেনই সংস্থা কেবলমাত্র করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আর সেটাই বর্তমান লক্ষ। অন্য কোন বিষয়ে এখন তারা মাথা ঘামাতে রাজি নয়। বিজ্ঞানীরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে দিন রাত পরিশ্রম করে এই কাজ করে চলেছেন। এছাড়া এই ভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণা করে চলেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন সকলের সঙ্গে মিলে যৌথ ভাবে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের।

তবে যেহেতু সকলে মিলে এই ভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন তাই যাতে কোন রকম বিপদ না ঘটে তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধীরে ধীরে কাজ করতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে সে দেশে সে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪৪৭৩। এছাড়া মারা গিয়েছেন বেশ কয়েকজন। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। যার জেরে চিন্তায় সে দেশের প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সাধারণের উপরে। আর সেই কারণে ঘোষণা করা হয়েছে লক ডাউনের।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সে দেশের সেনা প্রধান আভিভ কহেভি সেলফ আইসলেশনে গিয়েছিলেন ভাইরাস আতঙ্কের পরে। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার পরে তার শরীরে এই ভাইরাসের হদিশ না মেলাতে কিছুটা হলেও স্বস্তির শ্বাস ফেলেছেন তিনি। তবে সেনাপ্রধানের ডাক্তারি রিপোর্ট এখনও আসেনি। হাতে রিপোর্ট পাওয়ার পরে বোঝা যাবে তার শরীরের বর্তমান অবস্থা।

তবে এই প্রতিষেধকের পরীক্ষা করাও সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জের। কারণ এই মারণ ভাইরাস যেহেতু প্রানী শরীরে কোন প্রভাব ফেলে না সেই কারণে এই ভাইরাসের প্রতিষেধকের পরীক্ষার বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া ইতিমধ্যে যে সকল ব্যক্তি এই ভাইরাস থেকে সেরে উঠেছেন তাদের শরীরের প্লাজমা সংরক্ষনে সচেষ্ট হয়েছেন আই আই বি আর। আসা করা হচ্ছে সে দিক থেকে কোন না কোন সুত্র পাওয়া যেতে পারে।