Gaza

সুমন ভট্টাচার্যঃ জার্মান স্বৈরাচারী শাসক হিটলার ইহুদিদের গণহত্যার মাধ্যমে ইতিহাসে যে অন্ধকার অধ্যায় রেখে গিয়েছেন, ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইজরায়েল ক্রমাগত আরবদের অধিকার হরণ করে, প্যালেস্তাইন কে মৃত্যুপুরী বানিয়ে সেই একই অপরাধ করছে না? ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইনের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং গাজা ভূখন্ডে মৃত্যুর মিছিল আসলে সেই প্রশ্নরই জন্ম দেয়|

ইতিহাস এবং সমাজবিজ্ঞানকে সামান্য অনুধাবন করলে যে কেউ স্বীকার করবেন, একটা অন্যায় কখনও আর একটা অন্যায় করার যুক্তি হতে পারে না| অর্থাৎ হিটলারের আমলে জার্মানিতে ইহুদিদের উপর যে অন্যায় হয়েছিল বা ইউরোপ ছেড়ে ইহুদিদের পালিয়ে আসতে হয়েছিল, এই দুঃসহনীয় স্মৃতি কখনও ইহুদিদের বা ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইজরায়েলকে একই ধরনের অন্যায় অন্য কোনও জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে করতে অনুমোদন দেয় না| ইহুদিদের বা রাষ্ট্র হিসাবে ইজরায়েলের এই অনুমোদন থাকলে ধর্ষিতার ভাই,বাবা বা যে কোনো পুরুষ আত্মীয় প্রতিশোধ হিসাবে অন্য মহিলাদের ধর্ষণ করার অনুমতি পেয়ে যান|

তাহলে এইটা প্রথম বুঝে নেওয়া যাক, ইজরায়েল গত ৭০ বছর ধরে যেভাবে একটা ভূখন্ড থেকে আরবদের উৎখাত করার বা আরও পরিষ্কার করে বলতে গেলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, সেটা কোনও কাজের কথা হতে পারে না| ইজরায়েল নিজভূমে আরবদের বা ফিলিস্তিনিদের পরবাসী করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এখনও পর্যন্ত সেই কাজে অনেকটাই সফলও| ইজরায়েল প্যালেস্তাইন কে একটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজি নয়, শুধুই একটি ভূখন্ড বা টেরিটরি হিসাবে দেখাতে চায়| এবং সেই ভূখন্ডও আসলে, মানে প্যালেস্তাইন বা গাজা কে ইজরায়েলের উপনিবেশ হিসাবে শাসনে রাখতে চায়|

অর্থাৎ যে ইজরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম একটা জাতিবিদ্বেষের প্রতিস্পর্ধী উচ্চারণ হিসাবে, সেই ইজরায়েল আরব বা ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে একটা জাতি বিদ্বেষ গত ৭০ বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছে| এবং আগামীদিনেও চালিয়ে যেতে চায়| গাজা কে কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রেখে, প্রতিবাদকে বুলেট দিয়ে চুপ করিয়ে, দরকারে যথেচ্ছ বোমা মেরে ফিলিস্তিনীদের একটা ঔপনিবেশিক শাসন উপহার দিতে চায়| স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখা, নিজস্ব অস্তিত্ব এবং স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে চাওয়া ফিলিস্তিনীরা সেটা মেনে নেবে কেন?

আমরা ভারতীয়রা, যাঁরা ব্রিটিশের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতা করে স্বাধীন হয়েছি, তাঁরাই বা কোনপক্ষে দাঁড়াবো ?

ইজরায়েল যে প্যালেস্তাইন বা গাজা ভূখন্ডকে নিজেদের একটা উপনিবেশ মনে করে এবং সেই উপনিবেশের ভিতরে মানবাধিকার বলে কোনো শব্দের অস্তিত্বেই বিশ্বাস করে না,এইটা বুঝে নিলে ইজরায়েল বনাম প্যালেস্তাইনের সংঘর্ষ, তার রাজনৈতিক কারণ এবং আজকের রক্তক্ষয়কে বুঝে নিতে কোনো অসুবিধে হয় না| নেলসন ম্যান্ডেলার সফল আন্দোলনের জেরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবিদ্বেষের সমাপ্তি হলেও, শ্বেতাঙ্গদের একটা উপনিবেশের পতন ঘটলেও পৃথিবীর অন্য প্রান্তে ইহুদিরা উপনিবেশবাদ চালিয়ে যেতে চায়| এবং আদতে শ্বেতাঙ্গদের এই উপনিবেশের সমর্থনে অন্য শ্বেতাঙ্গরাও সদা চিৎকার করে যান|

ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইনের মধ্যে লড়াইতে সবসময় যে প্রশ্নটা গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, ইজরায়েলের তো আত্মরক্ষার অধিকার আছে বুঝলাম, আরবদের সেটা নেই? ইজরায়েলের বোমারু বিমান বোম মারলে সেটা দেশপ্রেম, আর প্যালেস্তাইন রকেট ছুঁডলে সেটা জঙ্গি হামলা? এই যে একচোখামি, এই যে পক্ষপাত, সেটাই আসলে সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয়| বিদ্বেষ আর হিংসার আঁতুড়ঘর হয়ে দাঁড়ায়|

সেই কারণেই প্যালেস্তাইনে রক্তক্ষয় বন্ধ হওয়া দরকার| ইজরায়েলের এই ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করার চেষ্টা, আগ্রাসনের প্রতিবাদ হওয়া উচিত|

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.