নয়াদিল্লি: করোনা আক্রান্তদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। মারণ এই ভাইরাসকে ঠেকাতে অতিসক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকার এবার ট্রেনের কোচকেই রূপান্তরিত করছে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। ট্রেনের কামরাগুলিকে কোয়ারেন্টাইন হিসেবে তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

থার্ড স্টেজে প্রবেশ করেছে ভারত। গোষ্ঠী সংক্রমণ কোনওভাবেই যাতে না হয়, মূলত তা আটকাতেই লকডাউন করা হয়েছে গোটা দেশ।

শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীয়ূষ গয়াল লিখেছেন, “করোনা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। এবার রেল পরিচ্ছন্ন, স্যানিটাইজড, হাইজিনিক পরিবেশ দিতে পারবে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য”।

রেলমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনের একটি কোচে ন’জন করে থাকতে পারবে। প্রতি কোচে ন’টি লবি, প্রতিটি লবিতে ছ’টি করে বার্থ থাকে। এক একটি লবি হবে একটি করে থাকার জায়গা। এই হিসেবে একটি কোচে ন’জন আইসোলেশনে থাকতে পারবেন। এখনও পর্যন্ত যা পরিকল্পনা তাতে ২০ হাজার কোচকে এই ভাবে কোয়ারেন্টাইন হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হবে।

আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে উন্নতমানের কোচগুলিকে। এঈ বিষয়ে প্রথম উদ্যোগ পশ্চিম রেল নিলেও কামাখ্যা রেল স্টেশনে শনিবার সকল প্রয়োজনীয় পরিষেবা সহ তৈরি করা হয়ে গিয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড যা কোয়ারেন্টাইনের জন্য ব্যবহার করা হবে।

নির্বিঘ্ন পরিষেবার জন্য কোন জায়গায় এই কোচগুলিকে রাখা হবে, কোথা থেকেই বা তার বিদ্যুৎ সরাবরাহ হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে কোন কোন স্টেশনে কোয়ারেন্টাইন কোচ রাখা হবে তা চূড়ান্ত করে ফেলেছে পশ্চিম রেল। প্রয়োজনে শহর থেকে দূরেও রাখা হবে এঈ কোচগুলি, এমনটাও শোনা গিয়েছে।

এছাড়াও, রেলের যে সব প্যান্ট্রি কার রয়েছে সেগুলিকে মোবাইল কিচেন বানানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। ওই সব প্যান্ট্রি কার যাঁরা কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন তাদের খাবারের ব্যবস্থা করবে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও খাবার সরবরাহ করবে প্যান্ট্রি কার। বিভিন্ন স্টেশনে থাকা কোয়ারেন্টাইন কোচে খাবার পাঠানো হবে মোবাইল কিচেনের মাধ্যমে।