প্যারিস: কালো তালিকার আরও কাছাকাছি পৌঁছতে চলেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের কাজে মোটেই সন্তুষ্ট নয় ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স। ২৭-টির মধ্যে মাত্র ৬টি বিষয়ে উতরোতে পেরেছে পাকিস্তান। তাই তাদের ‘ডার্ক গ্রে’ লিস্টে ফেলা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

টাস্ক ফোর্সের প্লেনারিতে যে যোগ দেওয়া আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সব সদস্য মিলে পাকিস্তানকে একঘরে করে দিতে পারে। তেমনই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৮ অক্টোবর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে FATF. কালো তালিকা বা ‘ব্ল্যাক লিস্ট’ এবং ‘গ্রে লিস্ট’-এর মাঝামাঝি একটি অবস্থান হল ‘ডার্ক গ্রে লিস্ট’। যার অর্থ হল ওই দেশটির প্রতি একটি কড়া সতর্কতা জারি করা, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশটি উন্নতির শেষ সুযোগ পায়, জানিয়েছেন এক আধিকারিক।

১৯৮৯ সালে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নজর রাখার জন্যে এই সংস্থা এফএটিএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে অর্থ জোগানো এবং সন্ত্রাস সংক্রান্ত অন্যান্য আশঙ্কার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল।

গত বছরের জুনে প্যারিসের এই নজরদারি সংস্থাটি পাকিস্তানকে গ্রে তালিকা অর্থাৎ ধূসর তালিকায় রাখে এবং ২০১৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্যে ওই দেশকে সময় দেয়। সেইসঙ্গে এই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয় যে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করতে পারলে তারও ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ তারিখ শেষ হওয়া একটি বৈঠকে FATF একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, পাকিস্তান, ইরান সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলি চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। এমতঅবস্থায় পাকিস্তানকে যদি কালো তালিকাভুক্ত করা হয় তাহলে বিশ্ব অর্থনীতির বাজারে বড়সড় ধাক্কা খাবে ইমরানের দেশ।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের শুরুতে ফ্যাটের প্রেসিডেন্ট মার্শাল বিলিংগস্লিয়া বলেছিলেন, সন্ত্রাসদমন সহ অন্যান্য বিষয়ে পাকিস্তান ফ্যাটের নিয়ম মেনে চলছেনা। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াতে চাইছেনা কোনও দেশই। এমত অবস্থায় আজ যদি পাকিস্তানকে গ্রে লিস্ট থেকে বাদ দিয়ে কালো তালিকায় ফেলা হয় তাহলে অর্থনীতিতে ভরাডুবির মুখে পড়বে পাকিস্তান। এমনটাই মনে করা হচ্ছে।