দীপিকা সাহা: দুই তিন দিনের মধ্যে ঘুরতে যাওয়া বলতে সেই তো দিঘা না হয় তাজপুর৷ অনেকটা একঘেয়ে হয়ে গিয়েছে৷ আর শীতকাল এলেই সকলের ঘুরতে যেতে মন চায়৷ আর তার মধ্যে ২৫ ডিসেম্বর দোরগোড়ায়৷ দুই তিন দিনের তো একটা ট্যুর তো হতেই পারে৷ কোথায় যাবেন ভাবছেন? জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না তো? যদি নতুন কোনও জায়গাতে যাওয়া যাওয়া যায়৷ তবে কেমন হয়? অনেকেই হয়তো জানেন না দিঘার কাছে বিচিত্রপুরের কথা৷

জায়গার নাম শুনে মনে হচ্ছে তো নামের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার লুকিয়ে আছে৷ আসলে অ্যাডভেঞ্চার লুকিয়ে আছে এই জায়গাতেই৷ আছে বৈচিত্র৷ আছে নতুনত্ব৷ সঙ্গে আছে নীরব রহস্য৷ নিত্য নতুন পাখিদের ডাক, জলের কুলু কুলু ধ্বনি, সবুজের হাতছানি৷ আপনি যদি এই বিচিত্রপুরে বেড়াতে যান মনে হবে কোনও এক স্বপ্ন রাজ্যে চলে এসেছেন৷ এইটুকু শুনে এখনি যেতে ইচ্ছে করছে তো৷ ধৈর্য রাখুন৷ আগে জেনে নিন কীভাবে যাবেন৷ বিচিত্রপুর দিঘা থেকে খুবই কাছে৷ মাত্র দুই ঘণ্টার রাস্তা৷ আর তা ছাড়া তালসারি সমুদ্র সৈকতের কথা তো জানেন৷ সেখান থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার রাস্তা৷ আপনি কোনও গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন৷ অথবা আপনি যদি দিঘা থেকে যাবেন মনে করেন তাহলে মোটর ভ্যানে করেও যেতে পারেন৷

আপনি উদয়পুর পেরিয়ে বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে চন্দনেশ্বর মন্দির পাশ কাটিয়ে সোজা চলে যাবেন তালসারিতে৷ তবে আপনাকে বিচিত্রপুর যেতে আরও কিছুটা যেতে হবে৷ বিচিত্রপুর গেলেই আপনি দেখতে পাবেন কতগুলি ছায়া ঘেরা রির্সোট৷ আপনি যদি মনে করেন এই সুন্দর ছায়া ঘেরা রিসোর্টে থাকবেন৷ তাহলে আপনাকে আগে থেকে বুকিং করতে হবে৷ তা না হলে হয়তো আপনাকে রাস্তাতেই দিন কাটাতে হবে৷ আর যদিও বা আপনার কপাল ভালো থাকে৷ যদি ঘর পেয়েও যান তার ভাড়া শুরুই হবে ৩০০০ টাকা থেকে৷ এর থেকে ভালো নয় কি আগে থেকে বুকিং করে যাওয়া৷

তবে এখানকার রিসর্টগুলিতে রয়েছে একটা বিশেষত্ব৷ প্রতিটি রিসর্টে রয়েছে নারকেল গাছ৷ এমনকি রিসর্টের কয়েকটি ঘর থেকে হাত বাড়ালেই আপনি নারকেল পাড়তে পারবেন৷ এই তো গেলো থাকার জায়গা৷ এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক বিচিত্রপুরে গিয়ে আপনি কি কি দেখতে পাবেন৷

এখানে পাবেন চন্দেনশ্বর মন্দির৷ ওই মন্দিরের পুজো দিয়ে আপনি আপনার যাত্রাটা শুরু করতে পারেন৷ দেখবেন মনটাও একেবারে ভালো হয়ে যাবে৷ এরপর ‘লাল মাটির সরানে’ গানটি গাইতে গাইতে মন্দিরের পাশ দিয়ে হেটে চলুন৷ দেখবেন গ্রামের আঁকাবাঁকা লাল মাটির পথ৷ তবে এখানেই শেষ নয়৷ যেতে যেতে রাস্তার দুই ধারে পড়বে তরমুজ খেত৷ এরপর আপনি লক্ষ করবেন রোদ আর ছায়ার মধ্যে লুকোচুরি খেলছে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট৷

এখান থেকেই শুরু বিচিত্রপুরের আসল অ্যাডভেঞ্চার৷ এই ম্যানগ্রোভ ফরেস্টে পাবেন একটি টিকিট কাউন্টার৷ পাবেন বোট৷ ওই টিকিট কাউন্টারে পাবেন স্পিডবোট টাইম টেবিল৷ সেই টাইম টেবিল দেখে বুক করে নিন একটি বোট৷ তারপর বেরিয়ে পড়ুন অ্যাডভেঞ্চারময় যাত্রায়৷ তবে তার আগে আপনার সুবিধার জন্য আরও কিছু তথ্য জেনে নিন৷

এখানে আপনি দুই ধরণের বোট পাবেন৷ একটি সিক্স সিটার ও অপরটি এইট সিটার স্পিডবোট৷ প্রতি ট্রিপে সিক্স সিটার বোটের ভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা৷ আর এইট সিটার বোটের ভাড়া ১২০০ টাকা৷ তাই আর দেড়ি না করে আপনার প্রয়োজনের বোটের টিকিট কেটে উঠে পড়ুন৷

এই স্পিড বোট আপনাকে নিয়ে যাবে মোহনার কাছে৷ যেখানে সুবর্ণরেখা সাগরে মিশেছে৷ তারপর সেখানে স্পিডবোট নামিয়ে দেবে একটি দ্বীপে৷ এই সেই দ্বীপ যার জন্য এখানকার নাম হয়েছে বিচিত্রপুর৷ অদ্ভুত জ্যামিতির নকশায় দাঁড়িয়ে আছে এই দ্বীপটি৷ যেখানে আপনি পৌঁছালেই পাবেন রহস্যের গন্ধ৷ রয়েছে সবুজ ঘেরা দিগন্ত৷ এই এলাকার বেশ কিছু গাছ নিজেদের ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে রয়েছে৷ জোয়ারের সময় এই দ্বীপটিতে আপনি আসতে পারবেন না৷ এক কথায় বলতে গেলে দিনের মধ্যে আপনি মাত্র ৬ ঘণ্টা জেগে থাকে এই দ্বীপটি৷ এটাই এই দ্বীপের বিশেষ চমক৷ তবে আর এতো না ভেবে বুক করে ফেলুন এই রির্সট৷ আর চলে যান বিচিত্রপুরে৷