আমদাবাদ: ১৪ বছরের টেস্ট কেরিয়ারে অনন্য মাইলস্টোনে ইশান্ত শর্মা৷ বুধবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম পিঙ্ক বল টেস্টে কেরিয়ারের শততম টেস্ট খেলতে নামলেন টিম ইন্ডিয়ার এই ল্যাঙ্কি পেসার৷ কিংবদন্তি কপিল দেবের পর দ্বিতীয় ভারতীয় পেসার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার অনন্য নজির গড়লেন ইশান্ত৷

মোতেরায় নরেন্দ্র মোদী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত-ইংল্যান্ড পিঙ্ক বল টেস্ট শুরুর আগে শততম টেস্টের নায়ক ইশান্তকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷ একাদশ ভারতীয় ক্রিকেটার এবং দেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন দিল্লির ফাস্ট বোলার। পিঙ্ক বল ম্যাচ শুরুর প্রাক্কালে মোতেরার দর্শকপূর্ণ গ্যালারিকে সাক্ষী রেখে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে বিশেষ স্মারক গ্রহণ করেন ইশান্ত।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এদিন ইশান্তের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। আর ইশান্তের পাশে বিশেষ দিনে এদিন ছায়া হয়ে দেখা গেল আরেক ‘দিল্লি বয়’ ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলিকে। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে বিশেষ স্মারক গ্রহণ করার আগে তাঁকে করজোড়ে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানান দিল্লি পেসার। স্মারক ছাড়াও ইশান্তের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ ক্যাপ।

২০০৭ সালে ঢাকায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ইশান্তের৷ ১৪ বছরের কেরিয়ারে অনেকবারই চোটের জন্য দলের বাইরে থাকতে হয়েছে দিল্লির এই পেসারকে৷ টেস্ট ক্রিকেটে ইশান্তের প্রথম বলটি ছিল নো-বল৷ তবে অস্ট্রেলিয়া সফরেই শততম টেস্টের মাইলস্টোন টপকে যেতেন ইশান্ত৷ কিন্তু চোটের জন্য শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া সফরের বিমানে উঠতে পারেননি টিম ইন্ডিয়ার ৩২ বছরের এই পেসার৷ তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম দু’টি টেস্ট খেললেও চেনা ছন্দে পাওয়া হায়নি ইশান্তকে৷ দু’টি টেস্টে মাত্র ৫টি উইকেট পেয়েছেন তিনি৷

১৪ বছরের কেরিয়ারে ৩০২টি উইকেট নিয়ে শততম টেস্ট খেলতে নামেন ৩২ বছরের ডানহাতি পেসার৷ ইশান্তের আগে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সেঞ্চুরি টেস্ট খেলার নজির রয়েছে কপিল দেব (১৩১টি), অনিল কুম্বলে (১৩২টি) এবং হরভজন সিং (১০৩)৷ এই চার বোলার ছাড়া ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে শততম টেস্ট খেলার নজির রয়েছে সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সুনীল গাভাস্কর, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ ও দিলীপ ভেঙ্গসরকরের৷

ইশান্ত ছাড়া এই মুহূর্তে বিশ্বের দুই ফার্স্ট বোলার শততম টেস্টের গণ্ডি পার করে খেলে চলেছেন৷ এঁরা দু’জনেই ইংল্যান্ডের৷ জেমস অ্যান্ডারসন (১৫৮) ও স্টুয়ার্ট ব্রডের (১৪৫) সঙ্গে বুধবার এলিট ক্লাবে নাম লেখান ইশান্ত৷ মাত্র ১৯ বছর বয়সেই টেস্ট অভিষেক হওয়া ইশান্ত ২০১১ সালে পঞ্চম দ্রুততম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন৷ ধারাবাহিকভাবে ঘণ্টায় ১৫০ কিমি বেগে বল করার ক্ষমতা রাখেন ইশান্ত৷ ২০১১ বক্সিং ডে টেস্টে ঘণ্টায় ১৫২.২ কিমি বেগে বল করে রিকি পন্টিংয়ের স্টাম্প ছিটকে দিয়েছিলেন ছ’ ফুট চার ইঞ্চির এই পেসার৷ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর সাফল্যের জন্য গত বছর অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন ইশান্ত৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.