রোম: জোরালো প্রমাণ মিলল জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে ভারতের যোগসূত্রের। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সবল রাখতে ভারতের ওষুধ ব্যবহার করে আইএস জঙ্গিরা।

কেহলতে গেলে চোট লাগতেই পারে। তেমনই যুদ্ধক্ষেত্রে জখম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ১০০ শতাংশ। ইসলামিক স্টেটের জখমি জঙ্গিদের জনপ্রিয় দাওয়াই হচ্ছে ট্রামাডোল ট্যাবলেট। এই পেইন কিলার ট্যাবলেট ফাইটার ড্রাগ হিসেবেও পরিচিত। প্রবল ব্যথা এবং ক্লান্তি চাপা দিতে এর জুড়ি মেলা ভার। এই সকল গুণের কারণেই জঙ্গি মহলে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ট্রামাডোল ট্যাবলেট।

কিন্তু চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে, মধ্য প্রাচ্যের সিরিয়া বা লিবিয়াতে থাকা ইসলামিক স্টেটের মূল ঘাঁটিতে থাকা জঙ্গিদের এই ভারতীয় ট্রামাডোল ট্যাবলেটের ব্যবহার। শনিবার ইতালির গিয়ইয়া তরো বন্দর থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৪ মিলিয়নেরও বেশি ট্রামাডোল ট্যাবলেট। স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে উক্ত ট্যাবলেট গুলি ভারত থেকে লিবিয়াতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল ট্যাবলেটের বাজারদর প্রায় ৫০ মিলিয় ইউরো। প্রতিটি ট্যাবলেট আইএস যোদ্ধাদের কাছে দুই ইউরো দরে বিক্রি করা হতো ইতালিয়ান পুলিশ।

আরও পড়ুন: ভারত-পাক সীমান্তে ২০৮০টি গণকবর নিয়ে তদন্তের নির্দেশ ভারতকে: আল জাজিরা

রেনজো নিসি নামের এক পুলিশ কর্তার মতে, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে নানা উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে ইসলামিক স্টেট। সেই অর্থের দৌলতেই ইরাক, সিরিয়া বা লিবিয়ায় অবস্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলিকে পরিচালনা করা হয়।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “সস্তায় পাওয়া যায় বলেই ওষুধ সহ নানাবিধ সামগ্রী ভারত বা পাকিস্তান থেকে আমদানি করে আইএস। ” তদন্তকারীদের অনুমান, ‘ভারতীয় উপমহাদেশের বড় সমাজ বিরোধীদের সঙ্গে আইএসের যোগসাজশ থাকতেই পারে। সেই কারণেই কোনোপ্রকারের চুক্তিপত্র ছাড়াই জঙ্গিদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বন্দরের মাধ্যমে পৌঁছে যায় যথাস্থানে।’

সস্তা, সহজলভ্য এবং ফলপ্রসূ হওয়ার কারণে ট্রামাডোল ট্যাবলেট লিবিয়া এবং ইজিপ্টের জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে বেশ জনপ্রিয়। একইসঙ্গে এগুলি ব্যবহার করে নাইজেরিয়ার জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম। চলতি বছরের মে মাসে ৩৭ মিলিয়ন ট্রামাডোল ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছিল জেনোয়া বন্দর থেকে। শ্যাম্পু এবং কম্বলের প্যাকেটের মধ্যে করে লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেটগুলি একটি ভারতীয় কোম্পানির থেকে কিনেছিল দুবাইয়ের একটি সংস্থা। যেগুলি শ্রীলঙ্কা হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছিল।