স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান৷ ঘটনার দিন থেকেই এর জন্য মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ লোকসভা নির্বাচনের জন্য বুধবার ইস্তেরহার প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ তৃণমূলের এই ইস্তেহারে আরও একবার পুলওয়ামা নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ইস্তেহারে শুরুতেই(পৃষ্ঠা নং-১৩) ‘আবেদন’ নামের অংশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে নাকি কাশ্মীর শান্ত হবে৷ কোনও সন্ত্রাসবাদী নাকি ভারতে অনুপ্রবেশের করে নাশকতার সাহস পাবে না৷ কিন্তু আমরা দেখলাম তিনি আসার পর কাশ্মীর আরোও বেশি অশান্ত৷ একের পর এক সন্ত্রাসবাদী হামলাতে প্রাণ গিয়েছে আমাদের জওয়ানদের৷’’

এরপরই গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘‘সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় এই হামলা নিয়ে আগে থেকেই গোয়েন্দা সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও আটকানো সম্ভব হয়নি৷ আমার তো মনে প্রশ্ন জাগছে যে, ভোটের আগে সব রকম ব্যার্থতা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে বিজেপির-র এটি একটি রাজনৈতিক গেমপ্ল্যান নয় তো?’’

১৪ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা হয়৷ সেনা কনভয়ে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ে আদিল নামের এক জঙ্গি৷ আদিল পাক জঙ্গি সংগঠন জঙ্গি জৈশ-এ-মহম্মদের এক সদস্য৷ শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান৷ ঘটনার পরপরই ভারত সরকারের তরফে অভিযোগ করে এই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ রয়েছে৷ পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে৷ এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনটির মাথা মাসুদ আজাহার এখনও পাকিস্তানে রয়েছে৷

কিন্তু এসবের পরও পুলওয়ামা হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করতে রাজী ছিলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ উলটে পুলওয়ামা কাণ্ডে মোদী সরকারের যোগ থাকার অভিযোগ তোলেন তিনি৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ইস্তেহার প্রকাশ করে আরও একবার সেই বিতর্ককে উসকে দিলেন মমতা৷ এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের৷