সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : খান রাজ যে শেষের পথে তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ২০১৮। তিন খান মহাশয়ের ছবিই সাধারণ মানুষের মন কাড়তে ব্যর্থ হল। ব্যর্থ ফিল্ম সমালোচকদের কাছেও। যেমন ‘রেস থ্রি’ তথৈবচ ‘ঠগস অফ হিন্দোস্তান’ এবং ‘জিরো’। বছরটা শুধুই নতুন প্রজন্মের। তালিকায় রনভীর সিং, রণবীর কাপুর, বরুন ধাওয়ান, আয়ুষ্মান খুরানা, রাজ কুমার রাও থেকে শুরু করে কার্ত্তিক আরিয়ান।

শুরুতেই বছরের ব্লক ব্লাস্টার দিয়ে শুরু করেন রনভীর সিং। ছবি পদ্মাবত। যেমন অভিনয় তেমন গল্পের বাঁধন। সঙ্গে বিতর্ক। খাপে খাপ হলে যা হয় বক্স অফিসে যা হওয়ার তাই হয়েছে। ২১৫ কোটি বাজেটের ছবির কামাই ৫৮৫ কোটি টাকা। সেখানে আব্বাস মস্তানের হিট ফ্রাঞ্চাইজি পরিবর্তন রেস থ্রি’র জঘন্য গল্প তৎসহ পরিবেশনা। টাকার অঙ্ক দেখলে হয়তো দেখাবে তিনশো কোটি। কিন্তু সেটা হয়েছে বহুদিন পর এবং ছবির সত্ব বিক্রি করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জোর করে ছবি টেনে নিয়ে যাওয়া। ছবিতে সলমনের অ্যাপিয়ারেন্স ছাড়া দেখার কিচ্ছুটি ছিল না বলেই অভিমত ছিল সমালোচক থেকে দর্শকদের।

এরপরেই আসা যাক রণবীর কাপুরের কথায়। সঞ্জুতে ফাটিয়ে অভিনয় করলেন, সঙ্গে কামব্যাক হিসাবে সঞ্জুই ঋষি পুত্রের। ১০০ কোটির ছবির বক্স অফিস কালেকশন ৫৮৫.৮৫ কোটি টাকা। সুজিত সরকার পরিচালিত বরুণ ধাওয়ান অভিনীত অক্টোবর মন ছুঁয়ে গিয়েছিল দর্শকদের। ৩২ কোটির ছবির বক্স অফিসে ৫৩ কোটি কামিয়ে মাঝারি হিট।

বরুণ এমনিতেই ‘হিট ফ্যাক্টরি’। এখনও পর্যন্ত একটা ছবিও বাজারে ফ্লপ নেই। অনুস্কা শর্মার সঙ্গে ‘সুই ধাগা’ অসাধারন এক লড়াইয়ের গল্প। চকোলেট হিরো ইমেজ বদলাপুরেই ভেঙেছেন। সুই ধাগায় তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন। ৩৫ কোটির ছবির হল কালেকশন ১২০.২০ কোটি।

আসা যাক রাজ কুমার রাওয়ের কথায়। যেমন ওয়েব ফরম্যাটে তেমন বড় স্ক্রিনে। বোস – ডেড ওর এলাইভ ওয়েব সিরিজে দর্শকদের মন জয় করলেন তিনি। সঙ্গে আবার ‘স্ত্রী’। ২৩ কোটি বাজেটের ছবি ব্যবসা করল ১৮০.৭৬ কোটি টাকা। সঙ্গে ফাটাফাটি সব গান। ‘মিলেগি’ থেকে ‘কামারিয়া’ বছরের চার্টবাস্টারের উপরের তালিকায় থাকবেই।

আয়ুষ্মান খুরানার ‘বাধাই হো’ ২৯ কোটির ছবি ব্যবসা করেছে ২২১.৪৮ কোটি টাকা। ‘অন্ধাধুন’ ৩২ কোটির ছবির এখনও পর্যন্ত ব্যবসা ১১০ কোটির। নতুন মুখের মধ্যে রইলেন টাইগার স্রফ। বাগী – ২ ৫৯ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে ব্যবসা করেছে ২৫৩.১৮ কোটি। কার্ত্তিক আরিয়ানের ‘সোনু কে টিট্টূ কে সুইটি’-র বাজেট ৩০ কোটি, আয় ১৫০ কোটি। সেখানে আমির খানের ‘ঠগস অফ হিন্দোস্তান’ মুখ থুবড়ে পড়ে দেওয়ালির ফাঁকা মার্কেটে।

আমির নিজে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ছবি না চলার জন্য। শেষ বাকি রইলেন শাহরুখ খান। ‘জিরো’ ছবি নিয়ে বাজারে তুমুল হইচই। প্রথম দিনেই আশাহত দর্শক বলছেন আনন্দ এল রাই কেন এমন ছবি বানালেন? প্রথমার্ধ যতটা আশা জাগায় পরের অর্ধে সব আশা ধুলিস্যাত দর্শকের। ছবি জমেনি। শাহরুখের হাতে যদিও এই সপ্তাহ শেষ এবং ক্রিসমাসের বাজার রয়েছে।

পরের সপ্তাহে রনভীর সিংয়ের ‘সিম্বা’ পর্যন্ত। তারপরে পয়লা পর্যন্ত সময় রয়েছে যদি কুড়িয়ে বাড়িয়ে কিছু পেয়ে ১০০ কোটির অঙ্কটা পেরনো যায়। কিন্তু ‘সিম্বা’-র ‘লড়কি আঁখ মারে’ যেভাবে বাজার নিয়েছে সেখানে কিং খানের সেই সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। যা করতে হবে ২৮এর মধ্যে।

একটা সময় শাহরুখের ছবির গান মানে হিট। পর পর দুই ছবি ‘হ্যারি মেট সেজল’ বা ‘জিরো’-র ‘হাওয়ায়ে’ এবং ‘যব তক যাঁহা মে’ মাত্র একটি করে গান ভালো। যা অবস্থা এখন তিন খানেরই নিজেদের অভিনয় কমিয়ে প্রযোজনা সংস্থা নিয়ে নিজেদের ব্যস্ততা বাড়িয়ে ফেলাটাই শুভ কাজ হতে পারে। নতুনদের সুযোগ দেওয়াটাও বলি ইন্ডাস্ট্রির জন্য শুভ হতে পারে। মুখ রক্ষা হতে পারে। পড়তি বাজার অন্তত তাই বলছে।