পাটনা: রবিবার পড়েছিল বিপিএসসি-র পরীক্ষা৷ বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সেই পরীক্ষায় একটা প্রশ্ন দেখে রীতিমত হতভম্ব পরীক্ষার্থীরা৷ চোখ কপালে তুলে দিয়ে সেই পরীক্ষায় প্রশ্ন এল রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে৷ প্রশ্ন করা হল বিহারে রাজ্যপাল কি শুধুই একজন হাতের পুতুল? তাঁর কি আর কোনও ভূমিকা নেই?

এই প্রশ্নপত্রের ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে৷ সংবাদসংস্থা এএনআই সেই প্রশ্নের ছবিও ট্যুইট করেছে৷ বিতর্ক উঠেছে প্রশ্নের ধরণ নিয়ে৷ কী করে কোনও সরকারি চাকরির পরীক্ষায় রাজ্যপালের মত এক উচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারির ভূমিকাকে এভাবে গুরুত্বহীন করে দেখানো হয়? এই প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে তারা রাজ্যপালকে কি একজন হাতের পুতুল বলে মনে করে?

বিপিএসসি-র পরীক্ষার দ্বিতীয় পত্র সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নপত্রে এই প্রশ্ন করা হয়৷ এই প্রশ্নের বিকল্প হিসেবে দেওয়া ছিল আরেকটি প্রশ্ন৷ তাতে পরীক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে ভারতের মত গণতন্ত্রে এতগুলি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি কতটা লাভজনক৷ আদৌ কি এর কোন সুফল জনগণ পায়?

এছাড়াও এদিন বিচারব্যবস্থার সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন আসে৷ তবে বাকি প্রশ্নগুলি নিয়ে বিতর্ক না বাঁধলেও রাজ্যপালের প্রশ্ন সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তোলপাড়৷ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে এই প্রশ্নের নিন্দা করা হয়েছে৷ রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই ধরণের প্রশ্ন রাজ্যপাল পদের অপমান৷ আরজেডি বিধায়ক ভাই বীরেন্দ্র সোমবার বলেন যে বা যারা এই ধরণের প্রশ্ন তৈরি করেছেন, তাঁদের কড়া শাস্তির মুখে পড়া উচিত৷

তবে প্রতিক্রিয়া মিলেছে বিহারের শিক্ষামন্ত্রী কৃষ্ণা নন্দন প্রসাদ বর্মার কাছ থেকেও৷ গোটা ঘটনাকে দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি৷ তাঁর মতে কীভাবে এই ধরণের প্রশ্ন তৈরি হল ও কীভাবে তা অনুমোদন পেয়ে পরীক্ষায় পেশ করা হল, তা তদন্ত করে দেখা হবে৷ এই নিয়ে আরও তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি৷ তাঁর আশ্বাস যে বা যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷