হংকং: একসময় চিনের প্রেসিডেন্ট শিং জিনপিং ঘোষণা করেছিলেন চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর প্রজেক্ট। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় সাত বছর। কিন্তু সেই অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে এখনও বহু দূরে চিন-পাকিস্তানের প্রোজেক্ট।

মূলত পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টরি, পাইপলাইন, সামুদ্রিক বন্দর, রাস্তা ইত্যাদির জন্য এই প্রোজেক্টের ভাবনা চিন্তা করা হয়েছিল। ভাবা হয়েছিল, চিনের সাহায্যে ৩ বছর আগেই দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলে একটি নতুন বিমানবন্দর তৈরি হ্যে যাবে। কিন্তু সে স্বপ্ন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

কারখানাগুলির স্বপ্ন এখনও সত্যি হতে পারে এয়ারপোর্টের দক্ষিণ অংশ বরাবর। সেখানে রয়েছে পাকিস্তানের মাত্র একটি নেভি জাহাজ। করাচি থেকে কোনও জাহাজ চালানোর লক্ষণও নেই।

চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর প্রজেক্ট-এর তিনভাগের মাত্র একভাগ সম্পন্ন হয়েছে। খরচ হয়ে গিয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ দোষই পড়েছে পাকিস্তানের ভাগ্যে।

এরই সঙ্গে পর পর দুই প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে বেলুচি লিবারেশন আর্মির স্বাধীন বেলুচিস্তান প্রদেশের ডাক দিয়ে ওই জায়গাকে অশান্ত করেছে। গত বছরের মে মাসে, জঙ্গিরা শহরের একমাত্র পাঁচতারা পার্ল কন্টিনেন্টাল হোটেলে হামলা চালিয়ে পাঁচ জনকে হত্যা করে।

শেষ তিন দশক ধরে চিনের অর্থনৈতিক গতি ধীরে ধীরে মন্থর হয়েছে। দেশে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চাপে অর্থনীতিও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে করোনার আঘাত চিনকে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাস চিনকে মারাত্মক নাড়িয়ে দিয়েছে।

করোনার জেরে গত একমাসে চিনের আর্থিক ক্ষতি এসে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় ৩০ লক্ষ কোটি। যতদিন এগোচ্ছে তাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। এমনকি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ কাগজের নোট। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চিন সরকার কাগুজে নোট পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় চিন। সব মিলিয়ে ৬০ হাজার কোটি ইউয়ান নষ্ট করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চিন।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।