স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সচিন, কপিল, গাভাষ্করের কাছে আপিল জানিয়েছিলেন অর্ণব গোস্বামী। যে তাঁরা যেন নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট ব্যানের কথা বলেন।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ চেয়ে উত্তাল দেশের একাংশের মানুষ। পুলওয়ামা হামলার মুতোড় জবাব দিক ভারত এই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাকিস্তান কে সব দিক থেকে কোনঠাসা করার প্রচেষ্টা করছে ভারত। বন্ধ করা হয়েছে টমেটো থেকে বিভিন্ন সব্জির পাকিস্তানে রপ্তানি। পাকিস্তান থেকে আসা ড্রাই ফ্রুটসের ট্রাক ভারতে ঢুকতে পারেনি ২০০ শতাংশ ট্যাক্সের ভয়ে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানকে একঘরে করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত।

এমত অবস্থায় ভারতের তরফে ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে বয়কট করার দাবি উঠেছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ক্রিকেটের ঈশ্বর কিন্তু পুরো বিষয়টি নিয়ে অন্য পথে হেঁটেছেন।

এবিষয়ে সচিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে না খেলা মানে ওদের “দু-পয়েন্ট” দিয়ে দেওয়া। এটা করে ওদের বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ দেওয়ার মানে নেই। বিশ্বকাপের ইভেন্টে পাকিস্তানের কাছে হারেনি ভারত। তাই এবারেও আমাদের উচিৎ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানকে হারিয়ে জবাব দেওয়ার। তবে এরপরেও দেশ যা সিদ্ধান্ত নেব আমি তার সমর্থনে থাকব।

রিপাবলিক টিভির রাত নটার ডিবেট শোটি পরিচালনা করেন অর্ণব গোস্বামী। শনিবার এই ডিবেট শোটিতে অংশ নেন প্রাক্তন আপ নেতা আশুতোষ। “সেম অন ইয়ু অ্যান্টিন্যাশনাল” হ্যাশট্যাগে এই ডিবেটটি শোটির প্রচার করছিল রিপাবলিক টিভি। আলোচনা হচ্ছি ক্যারাভান পত্রিকার একটি আর্টিক্যাল নিয়ে। এবং সেনা মৃত্যুতে পাকিস্তানের সমর্থনে কথা বলা ভারতের মধ্যে থাকা লোকজনকে। অর্ণব বারবার যুদ্ধের দাবিতে জোর দিচ্ছিলেন। পাশাপাশি সারা বিশ্বে সবরমক সম্পর্কে পাকিস্তানকে ব্যান করার সমর্থন করছিলেন তিনি।

ডিবেটের এক পর্যায়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ক্রিকেট খোলার প্রসঙ্গটি টেনে আমেন প্রাক্তন আপ নেতা আশুতোষ। ভারত-পাক ক্রিকেট ম্যাচের ব্যাপারে সচিনের মন্তব্য অর্নবকে মনে করিয়ে দিয়ে আশুতোষ প্রশ্ন করেন, আপনি কী সচিন কেউ দেশদ্রোহী বলবেন?

প্রশ্নের উত্তরে অর্ণব জানান তিনি সচিনের সঙ্গে সহমত নন। সচিন ভুল বলেছেন, দুপয়েন্টের৷ আমাদের এই মুহূর্তে আমাদের বদলার দরকার। এরপর শো থেকে চিৎকার করে বেরিয়ে যান আশুতোষ। এরপর একশ্রেণির বামমনোভাবাপন্ন লোকজন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার শুরু করেন, সচিন তেন্ডুলকরকে অ্যান্টিন্যাশনাল বলেছেন অর্ণব। অথচ পুরো ডিবেটের ভিডিওতে দেখা যায় এরকম কোনও কথা বলেননি রিপাবলিক টিভির এই অ্যাঙ্কার।