মুম্বই- মহৎ মানুষরা হয়তো এমনই হন। আর এই মানুষরা পাপে জর্জরিত পৃথিবীতে বেশি দিন থাকতে পারেনন না। তাই হয়তো এতো তাড়াতাড়ি চলে গেলেন অন্যতম অভিনেতা ইরফান খান। সম্প্রতি তাঁরই বন্ধু জিয়াউল্লাহ তাঁর সম্পর্ক এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা সত্যি অবাক করে দেয়। মানুষ আজকাল সাহায্য করলেও তা জনসমক্ষে তুলে ধরতে চান। দরিদ্রদের পরিচয় প্রকাশ করে নিজেকে সাহায্যকারী হিসেবে মহৎ করে তুলতেও পিছপা হন না।

সামান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী অনুদান করেও সংবাদমাধ্যমের কভারেজের স্মরণাপন্ন হন। এটাই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ইরফান খান যে এসবের উর্ধ্বে ছিলেন তা প্রমাণ হয়ে গেল। মৃত্যুর আগে করোনা আক্রান্তদের জন্য অর্থ অনুদান করেছিলেন।

কিন্তু শর্ত দিয়েছিলেন যাতে, তাঁর অনুদানের কথা ঘুণাক্ষরেও কেউ না জানতে পারেন। আর তাই বেঁচে থাকাকালীন কেউ জানতেও পারেননি তিনি কোভিড আক্রান্তদের জন্য অর্থ অনুদান করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে সম্প্রতি ইরফান খানের বন্ধু জিয়াউল্লাহ জানান এই কথা। জিয়াউল্লাহ করোনা আক্রান্তদের জন্য একটি তহবিল খুলেছিলেন। সেই তহবিলে একবার বলাতেই অর্থ অনুদান করেছিলেন ইরফান।

কিন্তু বন্ধুকে শর্ত দিয়েছিলেন, এই কথা যেন কেউ না জানতে পারেন। এমনও যে হতে পারে, তা শুনেও অবাক হয়েছেন ইরফানের ভক্তরা। এর আগেও মানুষের জন্য কাজ করেছেন ইরফান। মহারাষ্ট্রের এই গ্রাম ইগতপুরির সঙ্গে বিশেষ যোগ ছিল ইরফানের। সেখানে একটি বাগান বাড়ি তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল বলে জমি কিনেছিলেন ইরফান। এছাড়াও সেই গ্রামের জন্য বেশ কিছু কাজ করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা।

জানা যাচ্ছে, এই গ্রামটির দুস্থ পরিবারের বাচ্চাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইরফানদায়িত্ব নিয়েছিলেন ইরফান খান। বাচ্চাদের নিয়মিত বইপত্র কিনে দিয়েছেন। এছাড়াও গ্রামে একটি স্কুল খোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। সেই স্কুলের যাবতীয় খরচের বেশ কিছুটা বহন করেছিলেন অভিনেতা নিজেই।

এখানেই শেষ নয়, ইগতপুর গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যের কথাও তিনি ভেবেছিলেন। কিনে দিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি অ‍্যাম্বুলান্স। যাতে অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে পারেন। প্রসঙ্গত, ২৮ এপ্রিল আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মুম্বইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প