চেন্নাই: করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে সারা দেশে আড়াই মাস ধরে চলা লকডাউনে ভীষণ সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ৷ আর্থিক অনটনে গরিব মানুষ৷ কখনও আধপেটা খেয়ে কখনওবা না-খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন শ্রমিক ও গরিবরা। ব্যক্তিক্রম নয়, মহেন্দ্র সিং ধোনির আইপিএল দলের অফিসিয়াল চর্মশিল্পী আর ভাস্করন৷ আর্থিক অনটনে থাকা ধোনিদের মুচিকে আর্থিক সাহায্য করলেন ইরফান পাঠান৷ প্রাক্তন ভারতীয় অল-রাউন্ডার

কঠিন সময়ে কীভাবে অন্যের পাশাপাশি দাঁড়াতে হয়, তা দেখিয়ে দিলেন প্রাক্তন ভারতীয় অল-রাউন্ডার৷ বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে আগেও গরিবদের সাহায্য করতে দেখা গিয়েছে পাঠান ভাইদের৷ প্রাক্তন এই পেসার, তাঁর ভাই ইউসুফ পাঠান কয়েক মাস ধরে লকডাউনে গরিবদের মুখোশ, খাবারের প্যাকেট এবং ওষুধ বিতরণ করেন৷ ফের একবার মহৎ কাজ করে হৃদয় জিতে নিলেন ইরফান৷

আইপিএল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন খেলোয়াড় থেকে প্রশাসক৷ বিশেষ করে আইপিএলের উপর নির্ভর করে থাকা প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ। সিএসকে-র অফিসিয়ালস মুচি, যিনি ধোনি-সহ চেন্নাই সুপার কিংসের অন্য ক্রিকেটারদের গ্লাভস ও জুতো সেলাই করে থাকেন, টুর্নামেন্ট স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে আর্থিক সমস্যার ভুগতে থাকা ভাস্করনকে ২৫ হাজার টাকা নগদ দিয়ে সাহায্য করলেন ইরফান।

৯৯৩ সাল থেকে চেন্নাইয়ের ওয়ালাজা রোডে বসেন ভাস্করন। শেষ ১২ বছর ধরে তিনি সিএসকে-র অফিসিয়াল মুচি। সিএসকে-র খেলা থাকলে সেদিন প্লেয়ার্স এবং ম্যাচ অফিসিয়ালদের এরিয়ার বাইরে ছোট ওয়ার্কস্টেশনে বসে কাজ করেন। তাঁকে আর্থিক সাহায্য করে অন্যদের প্রশংসা কুড়োলেন প্রাক্তন সিএসকে তারকা৷

পাঠানের এই ভূমিকার প্রশংসা করে কেকআর ক্যাপ্টেন দীনেশ কার্তিক টুইটারে লেখেন, ‘তুমি দারুণ নজির গড়লে! প্রত্যেকের কাছ থেকে এই ছোট ছোট মহানুভবতার হাত এগিয়ে এলে কঠিন সময়ে বাঁচা আরও সহজ করে দেবে।’

ইরফানের এই কাজ প্রথমে জানান রৌনক কাপুর। তাঁর টুইটই শেয়ার করেন কার্তিক। সংবাদপত্রের মাধ্যমে সিএসকে-র এই চর্মশিল্পীর কথা জানতে পারেন তিনি। আইপিএল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কীভাবে সমস্যায় পড়েছেন তিনি৷ তারপরেই তাঁকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন পাঠান৷

দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানিয়েছেন, ‘প্রত্যেক ম্যাচ থেকে আমি ১০০০ করে টাকা পেতাম। সিএসকে ক্রিকেটাররা আমাকে ভালোবাসেন। মরশুমের শেষে ক্রিকেটার ও কোচেরা টাকার তহবিল তুলে আমাকে দিত। গত বছর ধোনির থেকে ২৫০০০ টাকা পেয়েছিলাম।’

ইরফান পাঠানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘গত মাসে ইরফান পাঠান আমাকে কিছু টাকা পাঠান। তারপরে পরিবারের জন্য কিছু খাবার কিনেছিলাম। খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধার দেনা হয়ে গিয়েছিল। সেই টাকা পরিশোধ করতে হল। ক্রিকেট যদি দ্রুত শুরু না-হয়, তাহলে কী করে বাঁচব, জানি না। ক্রিকেট বন্ধ থাকলে আমি সংসার চালাতে পারব না৷’

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব