তেহরান: মার্কিন সেনাকে ‘টেররিস্ট’ বলে চিহ্নিত করল ইরান। মঙ্গলবার ইরানের সংসদ থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের মেজর জেনারেল সোলেমানিকে হত্যার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জেনারেল সোলেমানিকে হত্যার করা হয় মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে।

মঙ্গলবার ইরানের জাতীয় সংসদ জরুরি অধিবেশনে বসে এবং ২৩৩ জন সংসদ সদস্যের সবাই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। এই অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে পেন্টাগন এবং তার সহযোগী বাহিনীগুলো সন্ত্রাসবাদী হিসেবে প্রস্তাব পাস করা হয়। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদেরকে সন্ত্রাসী বাহিনী বলে ঘোষণা করেছিল ইরান।

ইরানের জাতীয় সংসদে পাস হওয়া প্রস্তাবে পেন্টাগন, তাদের সহযোগী বাহিনী, এবং যিনি বা যারা জেনারেল সোলেমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন তাদের সবাইকেই টেররিস্ট বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি আইআরজিসি’র কুদস ব্রিগেডকে আরও শক্তিশালীভাবে গড়ে তোলার জন্য ২০ কোটি ইউরো বরাদ্দ দিতে ইরান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোলেমানির শেষযাত্রায় প্রার্থনায় নেতৃত্ব দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। প্রার্থনার সবসময় তাঁর চোখে জল আসে। ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানি।

এদিকে সোলেমানির মৃত্যুর পর থেকেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি। বারবার সংঘাতের খবর আসছে। কিভাবে ইরান এর প্রতিশোধ নেবে তা জানার জন্য আমেরিকা শুরু করেছে নানান পরিকল্পনা। এমন অবস্থায় সোমবার বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসের দিকে উড়ে আসে পরপর তিনটে মিসাইল।

বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে কাছে এই রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। মনে করা হচ্ছে একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। স্থানীয় রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই মিসাইলগুলি একটি অ্যাপার্টমেন্টে আঘাত করে। এর ফলে বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ মারা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।